আগামীকাল আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৩, ১৮:২৬

নানা সংকটে কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও অবশেষে খুলে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ। আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল করবে এ জন্য সবরকমের প্রস্তুতি নিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এ রেলপথ চালু হলে যোগাযোগের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন দু’দেশের ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষে উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ। বুধবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সফলভাবে ট্র্যাক কার চালানোর পর এখন চলছে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের প্রস্তুতি।

১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের বাংলাদেশ অংশে ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। পুরো অংশেই বসানো হয়েছে রেললাইন। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবনের কাজও শেষ পর্যায়ে। স্বল্প দূরত্বের এই রেলপথ আগরতলার সঙ্গে কলকাতার দূরত্ব কমাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার। দু’দেশের যোগাযোগের পাশাপাশি ভূমিকা রাখবে ব্যবসা-বাণিজ্যে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, এই রেলপথটি চালু হলে ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এদিকে রেলপথ দ্রুত চালুর খবরকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে যেন আগ্রহের শেষ নেই। 

এলাকাবাসীর দাবি, এই রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যেন এলাকাবাসীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিধি এই রেলপথে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুফল মিলবে ভোক্তা পর্যায়েও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি কাজী জাহাঙ্গীর বলেন, রেলপথের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে, সেটি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন বয়ে আনবে। স্থানীয়সহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হবে। এই রেলপথ শুধুমাত্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্তই করছে না, বরং খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।

টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড প্রকৌশলী রিপন শেখ বলেন, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের বাংলাদেশ অংশে সাড়ে ৬ কিলোমিটার রেললিংকিং তৈরি হয়ে গেছে। ২২ আগস্ট পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের  জন্য সবরকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) মো. ইয়াসিন বলেন, খুব শিগগিরই আমরা এই প্রকল্পটি চালু করে দেব। এ প্রকল্পটি চালু করার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষসহ আমরা সবাই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এ প্রকল্পটি চালু হলে রেলপথে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়বে। পাশাপাশি বাড়বে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। যা উভয় দেশের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পটির শুরু থেকে আমি রয়েছি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যে ৭টি অঙ্গ রাজ্য রয়েছে, তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ কলকাতার যোগাযোগের জন্য প্রায় সাড়ে ১৪০০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এ রেলপথটি হয়ে গেলে ত্রিপুরা থেকে কলকাতায় যাত্রাপথ অন্তত সাড়ে ৯০০ কিলোমিটার কমে যাবে। সেই সঙ্গে ভারতের ৭টি অঙ্গরাজ্য যুক্ত হলে চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে আমূল পরির্বতন হবে। এতে দুই দেশেই ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষেত্রে অনেকটাই লাভবান হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণ কাজে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪১ কোটি টাকা। ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড প্রকল্পের কাজ করেছে। আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলস্টেশন থেকে শুরু হয়ে আগরতলার নিশ্চিন্তপুর গিয়ে মিশেছে এই রেলপথ।

ইত্তেফাক/এবি