অর্থপাচারের বিষয়ে চুপ থাকাটা অন্যায়, এস. আলমের শুনানিতে হাইকোর্ট

  • ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষভুক্তির আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৩, ২০:১২

বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান এস. আলম গ্রুপের বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশনা প্রদান সংক্রান্ত মামলায় পক্ষভুক্তি হতে আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের আবেদন গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। তবে আবেদনটি আদালতের নথিতে রাখা হয়েছে। 

সোমবার পক্ষভুক্তির আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মতো বিষয়ে চুপ করে থাকাটা অন্যায়। জেনেশুনে আমরা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। দেশ-জাতির স্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

৪ আগস্ট একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘এস আলম’স আলাদিন’স ল্যাম্প’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সেই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে দুদককে স্বতঃপ্রণোদিত নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রুল জারি করে। এই মামলায় পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেন ব্যারিস্টার সুমন।

পক্ষভুক্তির আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন এস. আলম গ্রুপের কৌসুলি অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। তিনি বলেন, কী উদ্দেশ্যে উনি এই মামলায় পক্ষ হতে চান? জনস্বার্থে তো এই মামলা করেননি। শুধু পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এনেছেন। কোনোভাবেই উনার এই মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার সুযোগ নাই। 

আহসানুল করিম বলেন, রুলের বিচারাধীন অবস্থায় এস আলম গ্রুপ-সম্পর্কিত বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ভ্রান্ত ধারণা ও আতঙ্ক তৈরি হয়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, একটা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কত অর্থ প্রয়োজন? এত টাকার পেছনে কেন ঘুরতে হবে? আমরা যদি সবকিছু দেখে চোখ বন্ধ করে থাকি, সেটা কাম্য নয়। আদালত বলেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কাউকে হিউমিলিয়েট (হেয়প্রতিপন্ন) করার জন্য কোনো ভুল রিপোর্টিং হয়, আমরা কাউকে ছাড়ব না। আদালত বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরা মনে করি, আমাদের দায়বদ্ধতার ব্যাপার রয়েছে।

আহসানুল করিম বলেন, আপনাদের এ ধরনের বক্তব্যে মানুষ উজ্জীবিত হয়। হাইকোর্ট বলেন, রায় পক্ষে গেলে অনেকে খুশি হয়। বিপক্ষে গেলে ফরমায়েশি রায় বলে সমালোচনা করা হয়। ফরমায়েশি রায়ের কথা শুনলে আমরা বিব্রত হই। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে এস.আলমের বিষয়ে হাইকোর্টের অনুসন্ধানের নির্দেশনার আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের উপর বুধবার শুনানি হবে। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এই দিন ধার্য করে দেন। এ সময় দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান, এস. আলমের পক্ষে আহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/এএএম