সেমিস্টার ফি কমানো, ক্লাস উপস্থিতি বাতিল, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করাসহ ৩১ দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি মির্জা আবু সাঈমের সভাপতিত্বে ৩১ দফা দাবি উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক অনিমা জামান প্রমা। আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষাপ্রযুক্তি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুহতামিম হাওলাদার, শিক্ষাপ্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আয়মান আসিফ, ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাদিদ আহমেদ ও আনারুল ইসলাম প্রমুখ।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনিমা জামান প্রমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স প্রায় ছয় বছর। এখন পর্যন্ত আমাদের স্থানীয় ক্যাম্পাস নেই। ছাত্র-ছাত্রীদের হল নেই। এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে হল করা হয়েছে। পানির ব্যবস্থা ভালো নয়। আমরা ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অথচ আমাদেরজন্যে বরাদ্দ ইন্টানেটের গতি একেবারে কম। শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত সব ক্লাস হচ্ছে না। রিটেক পরীক্ষার নতুন করে ফি নিধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৭৫০ টাকা। এটা আমাদের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্লাসে এবং হলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা নেই। সরকার আমাদের জায়গা দিয়েছে অথচ স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিগুলো নিয়ে গেলে তারা কোনো কথা না বলায় সোমবার সকাল ৯টা থেকে একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সড়কে না এসে ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান করার নির্দেশ দেয় পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপচার্য মোহাম্মদ মাহফুজুর ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। উপাচার্য পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াননি তারা। এর আগেও অনেকবার বিভিন্ন দাবি উপাচার্যকে জানালেও সমাধানের আশ্বাস দেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য মোহাম্মদ মাহফুজুর ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ডাকা হয়েছিল কিন্তু তারা কথা বলতে আসেনি। তবে কথা হবে নিশ্চয়ই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিয়েই এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
