কুষ্টিয়ায় ফোর লেন প্রকল্প

ভূমি জটিলতা ও মামলায় আটকে গেছে কাজ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৩, ০৪:০০

কুষ্টিয়ায় জাতীয় মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণে দুটি প্যাকেজভুক্ত কাজের একটিতে মামলা অন্যটিতে ভূমি জটিলতায় আটকে গেছে পুরো প্রকল্প। ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও আইনি বাধাসহ অন্যান্য জটিলতায় প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ ঝুলে আছে। এতে পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, যানবাহন চালক ও যাত্রীসহ শহরবাসী পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুড়িয়া জাতীয় মহাসড়কের (এন ৭০৪) কুষ্টিয়া শহররের বটতৈল মোড় থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্নের কার্যাদেশ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তী সময় দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় শহরাংশে বটতৈল-মজমপুর গেট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার প্রথম প্যাকেজভুক্ত সড়কের অংশবিশেষের জমি দাবিদার রেজাউল হকের দায়ের করা রিটে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় সড়ক উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া মজমপুর গেট-ত্রিমোহনী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার দ্বিতীয় প্যাকেজভুক্ত অংশে পাশাপাশি সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের একটির বাউন্ডারি অপসারণ ও অন্যটির ভূমি অধিগ্রহণে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবটি ঝুলে থাকায় সড়ক সম্প্রসারণসহ উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসডিই) লিটন আহমেদ খান জানান, মহাসড়ক লাগোয়া পাশাপাশি সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটির বাউন্ডারি সড়ক বিভাগের ১৫ ফুট জায়গার মধ্যে পড়ায় তা অপসারণে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানের ৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৫০ মিটার প্রস্থ জায়গা অধিগ্রহণে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ঐ প্রস্তাব অনুমোদন না হলে সড়ক সম্প্রসারণ ছাড়াই বর্তমান অবস্থায় প্রজেক্ট বাস্তবায়নকারী কমিটি (পিআইসি) ও প্রজেক্ট পরিচালনাকারী কমিটির (পিএসসি) নির্দেশনা মতে প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করা হবে।

মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি মেম্বার বেলাল আহমেদ জানান, ফোর লেনে উন্নীতকরণসহ মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধে চলমান বর্ষা মৌসুমে শহরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিম আজাদ খান জানান, উচ্চ আদালতের রিটের রায়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রকল্পের একটি প্যাকেজের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের অন্য প্যাকেজের আওতায় বাউন্ডারি অপসারণসহ ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম