প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদী, রাজনীতি, পড়াশোনা আড্ডার নতুন ঠিকানা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চন্দ্রবিন্দু ক্যাফে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ সংলগ্ন এই ক্যাফেতে সকাল সন্ধ্যায় মেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের চা, সিঙ্গারা, পুরি, সমুচা, জিলাপি, পেঁয়াজু বিভিন্ন রকমের মিস্টিসহ নানা রকমের নাস্তা।
প্রতিটি মুহূর্তে এখানে যুক্ত হয় শত অনুভূতি। কত শত শিক্ষার্থী এই চন্দ্রবিন্দু ক্যাফের টেবিল, বেঞ্চে স্মৃতি রেখে যাচ্ছে তা অজানা। সকাল থেকে রাত অবধি এখানে ফোটে শিক্ষার্থীদের প্রাণের ফোয়ারা। এখানকার সিঙ্গারা-পুরির সাথে এক কাপ চা বা কফি যেন হাজার সুখের কারণ। ক্লাসের ফাঁকে এখানে নাস্তা সেড়ে নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। নাস্তার পাশাপাশি এখানে আড্ডাও চলে সমানতালে। বিকাল বা সন্ধ্যায় বন্ধুরা মিলে গান-বাজনা, গল্প, হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বাইরেও এখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসর সময় উপভোগ করেন চায়ের চুমুকে। চায়ের কাপের ঝড়ে এখানে আলোড়িত হয় প্রাণের মেলবন্ধন, আলোচিত হয় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বাইরে থেকে কেউ ঘুরতে আসলেও শিক্ষার্থীরা অতিথিকে নিয়ে আসেন এই ক্যাফেতে।
এখানকার গরম গরম কুড়মুড়ে জিলাপির প্রেমে অনেকেই আসক্ত। এই ক্যাফেতে মূল্য পরিশোধপূর্বক নিজের নাস্তা নিজেকেই সংগ্রহ করতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নিজের কাজ নিজে করার পরিবেশ। চন্দ্রবিন্দু ক্যাফে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে না ক্যাম্পাসের বাইরে। ফলে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা। শিক্ষার্থীরা খুব সহজে ক্লাস পরীক্ষার ফাঁকে এখান থেকে নাস্তা খেয়ে আবার ক্লাস কন্টিনিউ করতে পারে খুব সহজেই। এখানে শিক্ষার্থীদের প্রাণ চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখলে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায় সবার।
স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষার্থী ফারুক মিয়া বলেন, ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে খেতে আসি। এখানকার দই-চিড়া, পুরি, সিঙ্গারা, খিচুরি বেশ ভালো লাগে। মুখরোচক ও সুস্বাদু এই খাবারগুলো চন্দ্রবিন্দু ক্যাফেতে যাওয়া হয়। খাবার সুযোগে এখানে আমাদের আড্ডাও জমে উঠে।
কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চন্দ্রবিন্দু ক্যাফের কারণে এখন ক্যাম্পাসের মধ্যে বসার জন্য এমন সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখানকার খাবার বেশ ভালো। তবে এখানে শিক্ষার্থীদের উপযোগী আরও কিছু আইটেম বাড়ানো গেলে শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হতো। আর আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চন্দ্রবিন্দু ক্যাফে পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের খাবার নিজেরাই নিয়ে যায় ফলে পরিবেশনের জন্য কর্মচারী প্রয়োজন হয় না। এতে আমার ব্যয় কমে গেছে। আমরা মানসম্মত খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করছি সবসময়। আমি ইতিমধ্যেই খাবারের আইটেম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি। বর্তমান খাবার মেন্যুর সাথে শিক্ষার্থীদের ব্যয় উপযোগী দামে বিরিয়ানিসহ বিভিন্ন ফলের জুস থাকবে। এছাড়া ভাজা পোড়া খাবার আইটেমগুলোকে প্যাকেজ হিসেবেও পরিবেশন করা হবে।
দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিফুল ইসলাম বলেন, সকল ধরনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে একটি সুন্দর নামকরণের মাধ্যমে ক্যাফেটি চালু করার জন্য মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর স্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। চন্দ্রবিন্দু ক্যাফে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবসর সময়গুলোতে চা নাস্তাসহ আড্ডার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এখানে বসতে পারি, আড্ডা দিতে পারি। যেখানে এক বছর আগেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ও ২য় গেইটের বাইরের চা দোকানগুলোতে বসতে হতো। সেসব স্থানে স্থানীয় লোকজনের সমাগম থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারতাম না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, সন্ধ্যায় এখানে বসে নাস্তা করার অনুভূতিই অন্যরকম। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মিলে একসাথে বসে আড্ডা দেন, নাস্তা করেন। আমি এরকম অসংখ্য ক্যাফে খুলতে চাই যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মুক্তভাবে কথা বলতে পারবেন। যত এরকম ক্যান্টিন হবে, ক্যাফে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তত মুক্তভাবে কথা বলার পরিবেশ পাবেন।
উল্লেখ্য, ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে ডি এম লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের তৎকালীন ২ টাকা মূল্যের হাস্যরসাত্মক ‘চন্দ্রবিন্দু’ সংগীত গ্রন্থের নামানুসারে এটির নামকরণ করা হয়।

জাবিতে গেস্টরুমের ‘ভিডিও করছে’ সন্দেহে সাংবাদিককে পেটাল ছাত্রলীগ
আইডিয়াল স্কুলে মুশতাকের প্রবেশে আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা