খুলনায় সর্পদংশন, প্রতিকার ও চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সুন্দরবন পশ্চিমের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন।
প্রশিক্ষণে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে সাপে কামড়ায়। যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ মারা যায়। যাদের বেশির ভাগই গ্রামের সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খুলনা বিভাগের মানুষ সর্পদংশনের শিকার হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, নড়াইল থেকে শুরু করে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা সব অঞ্চলেই সর্পদংশনের ঘটনা রয়েছে। এই অঞ্চলে গোখরা, কেউটে, কোবরা, রাসেল ভাইপার সাপের দংশনে বেশি মানুষ মারা যায়।
পরিসংখ্যানে বলা হয়, খুলনা বিভাগে বছরে ১ লাখ দংশনের শিকারের মধ্যে ৬১৫ জন মানুষ মারা যায়। যা সর্বোচ্চ বাংলাদেশে।
এতে আরও বলা হয়, সর্পদংশন করলে ৬১ ভাগ লোক ওঝার কাছে যায়। যেটা সবচেয়ে বড় ভুল। সর্পদংশন করলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। রাতে চলাফেরা করার সময় অবশ্যই আলো (টর্চলাইট) ব্যবহার করতে হবে। সাপে কাটলে আক্রান্ত স্থান কাটা, দড়ি দিয়ে খুব শক্ত করে বাঁধা, আক্রান্ত স্থান থেকে মুখের সাহায্যে রক্ত বা বিষ টেনে বের করার চেষ্টা করা যাবে না। মেঝেতে না ঘুমিয়ে খাটের ওপর মশারি ব্যবহার করে ঘুমাতে হবে। এছাড়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর বেশির ভাগ সময় আক্রান্ত ব্যক্তি আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করতে হবে, ভয়ের কিছু নেই। এর চিকিৎসা রয়েছে। তাই সাপের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
