এএফসি কাপ ফুটবলের প্লে অফ থেকেই বিদায় নিতে হলো। গ্রুপ পর্বে উঠা হলো না আবাহনীর। কলকাতা থেকে সোজা ঢাকায় ফিরে আসার রিটার্ন টিকিট ধরিয়ে দিয়েছে মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট। প্লে অফ ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মোহন বাগান ৩-১ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে উঠে গেল।
কলকাতার সল্টলেকে যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে গতকাল রাতে হওয়া মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট আর বাংলাদেশের আবাহনীর লড়াই ছিল ফাইনাল ম্যাচের উত্তেজনায় ঠাসা। দুই দলই আগের দিন বলে ছিল ফাইনাল ম্যাচ। এখান থেকে বাঁচতে হবে। সলতে পাকিয়ে ছিল অগ্নিসংযোগের অপেক্ষায়। সেই বাঁচার লড়াইয়ে আবাহনী গোল করে এগিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। মোহন বাগানে অগ্নিসংযোগ করতে পারেনি আবাহনী। উলটো নিজেরাই পুড়ে গেল। দুই দুটি ভুলেই আবাহনী শেষ হয়ে গেছে। কপাল পুড়েছে আবাহনীর। আরেক বার ছিটকে পড়তে হলো। খেলার ১৭ মিনিটে আবাহনীর গোল আশা জাগিয়েছিল।
মোহন বাগানের গোলকিপার বিশালের হাত ফসকে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মেরে গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন সেই ফুটবলার, শেখ জামাল থেকে আসা ক্যারিবিয়ন কর্নেলুইস স্টুয়ার্ট। যিনি সিলেটে ক্লাব ঈগলসের বিপক্ষে গোল করেছিলেন। সেই কর্নেলুইস স্টুয়ার্ট কাল মোহন বাগানের বিপক্ষে গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন আবাহনীকে ১-০। যুব ভারতী স্টেডিয়ামের মোহন বাগান সমর্থকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই গোল ধরেই রাখতে পারল না। রক্ষণভাগে দুটি ভুলে সব শেষ হয়ে যায়। ৩৬ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার জেসন কামন্সি গোল করেন পেনাল্টি হতে, ১-১। বাগানের লিস্টন কোলাসোকে ফাউল করে বসেন সুশান্ত ত্রিপুরা। সেই সূত্র ধরেই পেনাল্টি হয়। সুশান্ত হলুদ কার্ড দেখেন।
আবাহনী এগিয়ে থাকার পরও দুই দলের মধ্যে পালটা আক্রমণ আর আক্রমণে দারুণ জমে উঠেছিল খেলা। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও আরেকটি ভুল করে বসে রক্ষণভাগ। এবার আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে যায় আবাহনী। হুগো বোমোসের ক্রসের বল ঠেকাতে গিয়ে মিলাদ শেখ জালে ঢুকিয়ে দেন ২-১। ৫৮ মিনিটের এই গোলের রেশ না কাটতে ৬০ মিনিটে আবারও গোল হজম করে আবাহনী। আরমান্দো সাদিকু গোল করে (৩-১) মোহন বাগানের স্প্যানিশ কোচ হুয়ান ফেরেন্দোকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন। কোচ ফেরেন্দাও সাদিকুকে তুলে মানভীর সিংকে মাঠে ঠেলে দেন আবাহনীকে আরও চেপে ধরার জন্য। কিন্তু ততক্ষণে আবাহনীর ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। গতবারও মোহন বাগানের কাছেই হেরেছিল ৩-১ গোলে।
