সারা দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া লিওনেল মেসির সেই ছবিটার কথা মনে আছে নিশ্চয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আজন্ম আরাধ্য ট্রফিটা মাথার শিয়রে রেখে শান্তির ঘুম ঘুমানোর ভান করেন মেসি। পরে নিজেই সেই ছবিটা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করে মেসি বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দিলেন, স্বপ্নের বিশ্বকাপ জিতে তিনি কতটা তৃপ্ত। বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মেসির সেই উদযাপনটাই এবার নকল বিশ্বকাপজয়ী স্পেন নারী দলের সদস্য, বিতর্কের ঝড় তোলা চুমু-কাণ্ডের শিকার সেই জেনিফার হেরমোসো। ঠিক মেসির মতো করেই বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে শান্তির ঘুম ঘুমানোর ভান করে উদযাপন করলেন স্পেনের ৩৩ বছর বয়সী নারী ফুটবলার।
স্বাভাবিকভাবেই হেরমোসোর ছবিটাও দ্রুতই ফুটবল দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে মেসির সেই উদযাপনের ছবিও। বিশ্বকাপজয়ী স্পেন নারী দল অতীতের আরও একটা স্মৃতিকে নকল করেছে। প্রথম বারের মতো ২০১০ বিশ্বকাপ জিতে স্পেনের পুরুষ দল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফেরার পর বিমানের দরজা খুলতেই প্রথমে ভেসে উঠে ইকার ক্যাসিয়াসের মুখ। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সবার আগে স্বপ্নের ট্রফি হাতে নিয়ে নেমে আসেন বিমানের সিঁড়ি বেয়ে। বিশ্বজয়ী স্পেনের নারী দলও দেশে ফিরে সেই দৃশ্যেরই অবতারণা করেছে। বিশ্বজয়ীর বেশে স্পেন নারী দল অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশ স্পেনে পা রাখে পরশু রাতে।
এবারও বিমানের দরজা খুললেই ক্যামেরার ফোকাসে ধরা পড়ে অধিনায়ক ইভানা আন্দ্রেসের মুখ। স্বপ্নের ট্রফি হাতে তিনিই সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসেন প্রথমে। তার সঙ্গে ছিলেন স্পেন ফুটবলের প্রধান, সেই চুমু-কাণ্ডের হোতা লুইস রুবিয়ালেস ও কোচ হোর্হে ভিলদা। ইভানা মূল অধিনায়ক হলেও ফর্মহীনতার কারণে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তার অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওলগা কারমোনা। যিনি সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করে নায়ক বনে গেছেন। তবে বিমান থেকে নামার সময় বিশ্বকাপ ট্রফিটা মূল অধিনায়ক ইভানার হাতেই ছিল। তার পেছন পেছন নেমে আসেন বিশ্বজয়ী অন্য মেয়েরা। প্রথমে বিমানবন্দরেই বিশ্বজয়ী নারী ফুটবলারদের বিশেষ শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর বিশ্বজয়ী ২৩ নারী ফুটবলারকে নিয়ে যাওয়া হয় মাদ্রিদের পুয়েন্তে ডেল রে এসপ্লানেড ময়দানে। বিশ্বজয়ী মেয়েদের বরণ করে নিতে সেখানে আগে থেকেই জড়ো হয়েছিল স্পেনের মানুষ, তিল ধারণের জায়গা ছিল না। হাজার হাজার দর্শক নেচে গেয়ে, স্লোগান আর মুহুমুহু করতালির মাধ্যমে বরণ করে নেন বিশ্বজয়ী মেয়েদের। রাতের নিস্তব্ধতা বেদ করে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলে বরণ অনুষ্ঠান।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের মেয়েদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেই বিতর্কিত কাণ্ডের জন্ম দেন স্পেনের ফুটবল প্রধান রুবিয়ালেস। বুকে জড়িয়ে ধরার পাশাপাশি জেনি হেরমোসোর ঠোটে চুমু খান। তার সেই চুমু-কাণ্ড নিয়ে স্পেনের সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। উপায়ান্তর না দেখে রুবিয়ালেস নিজের অপকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন।
