সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানান, গত ২০ আগস্ট এই রেললাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এই কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১০০ বছরের মধ্যে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হলেও রেললাইনের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। পানির স্রোতে কোথাও পাঁচ মিটার, কোথাও সাত মিটার ক্ষতি হয়েছে। সবমিলিয়ে ২৫০ মিটার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় রেললাইন থেকে পাথর-মাটি সরে গিয়ে দেবে গিয়েছিল। তবে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আরো তিনটি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সাতকানিয়ার তেমুহনী অংশে কালভার্টগুলো হবে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করে অক্টোবরে ট্রেন চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে চলছে কাজ।
মো. মফিজুর রহমান বলেন, ট্রেন চলাচল শুরুর আগেই যেহেতু এত বড় বন্যা হয়েছে, সেহেতু এখন সবকিছু মাথায় নিয়ে আমরা কাজ করব। ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়ার তেমুহনি এলাকায় পানি চলাচলের জন্য আরো তিনটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। কালভার্ট নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। শিগিগরই কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তবে বন্যার কারণে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন পিছিয়ে যাবে না। সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে অক্টোবরে ট্রেন চলাচল শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আমরা।
প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি জানিয়ে মফিজুর রহমান আরো বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের ৯০ কিলোমিটার দৃশ্যমান। প্রকল্পের কাজ ৮৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ছোট-বড় সবকটি রেলসেতু দৃশ্যমান হয়েছে। বাকি কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে ছয় দিনের চট্টগ্রাম নগরীসহ পুরো জেলায় বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনি এলাকায় নির্মাণাধীন দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের কিছু অংশে পাথর ও মাটি সরে দেবে গিয়েছিল। আঁকাবাঁকা হয়ে গিয়েছিল কিছু অংশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর প্রায় সাত বছর পর ২০১৮ সালে ডুয়েল গেজ এবং সিঙ্গেল ট্র্যাক রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার।
