জেনি হারমোসোকে সম্মতি ছাড়াই চুমু দিয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। বিষয়টি লুইস নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ফলশ্রুতিতে ৮১ জন নারী ফুটবলার জানিয়েছেন, এই প্রধানকে তার পদ থেকে অপসারণ করা না হলে মাঠে নামবেন না তারা। খবর বিবিসির।
নারী ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শিরোপা জয়ের পর দলের ফুটবলার জেনি হারমোসোর মাথায় দুহাত রেখে চুমু দিয়ে বসেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস।
নারী ফুটবলারকে তার অসম্মতি ছাড়া চুমু দেওয়ার ঘটনায় স্প্যানিশ ফুটবলের এই প্রধানকে অপসরাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি এমন শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ফিফার পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের জরুরি সভায় রুবিয়ালেসকে অপসারণের দাবি জোরালো হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে সভায় এই ফুটবলপ্রধান বলে ওঠেন, ‘এই অপসারণ আমার জন্য অবমাননাকর।’
তার বক্তব্য, ‘এটা স্বতঃস্ফূর্ত চুম্বন ছিল। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই আমি তাকে চুমু দিয়েছি। এটাই সত্য। সম্মতি নিয়ে চুমু দেওয়া নিয়ে আমাকে দোষারোপ করাটা কি ঠিক হচ্ছে? আমাকে কি এখান থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া যায় না?’
হারমোসোর বিবৃতি
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন জেনি হারমোসো। তিনি বলেন, ‘একটি কথা আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, লুইসের সঙ্গে চুমুর বিষয়টি নিয়ে আমার কোনো ধরনের কথা হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, অসম্মতিতে চুমু দিয়েছেন লুইস।’
হারমোসা আরও দাবি করেন, ‘বিষয়টি (লুইসের অবস্থান) মিথ্যা এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে মোড় ঘোরানোর প্রচেষ্টা। আমি মনে করছি, এ বিষয়ে অভিযোগ করা উচিৎ। কেননা ক্রীড়াঙ্গন কিংবা সামাজিক- যে কোনো ক্ষেত্রেই আমি এখন কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। এ ধরনের যৌন হয়রানিকারী, অপেশাদার ব্যক্তি সম্মতি ছাড়া আমাকে চুমু দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর।’
তিনি বলেন, ‘লুইসের অভিযোগ অস্বীকারের বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, অপেশাদার আচরণ।’
জেনি হারমোসোর পাশে সবাই
স্পেনের নারী ফুটবলারদের ইউনিয়ন ‘ফুটপ্রো’ এক বিবৃতিতে সিডনিতে নারী বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠানে অনভিপ্রেত ঘটনায় জেনিকে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত বর্তমান প্রধানকে (লুইসকে) অপসারণ করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা মাঠে খেলবো না।’
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নেশন্স লিগে সুইডেনের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।
