জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি কে করছে? এটা লজ্জার ব্যাপার। ফখরুল সাহেব একজন রাজাকারের সন্তান। রাজাকার সন্তানের কথায় বঙ্গবন্ধু কন্যার পদত্যাগের দাবি এটা মেনে নেওয়া যায় না। রাজাকারের চিন্তায় সব সময় পাকিস্তান। রাজাকারের সন্তানের দাবিতে, আন্দোলনে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবে এই স্বপ্ন যদি কেউ দেখে এটা দিনের স্বপ্ন হতে পারে এটা রাতের স্বপ্নও না।
শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মাদারীপুরের শিবচরের দক্ষিণ বহেরাতলায় নূর-ই-আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন উদ্বোধন শেষে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন চিফ হুইপ শিবচর পৌরসভায় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন, জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জামিয়া মুহাম্মদিয়া শামসুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার নতুন ভবনের উদ্বোধন, দক্ষিণ বহেরাতলার ১৩৩ নম্বর লপ্তসরকারেরচর জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বর্ধিত অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ উদ্বোধন, শিবচর ডায়াবেটিক সমিতির ক্যাম্পিং ও পরিদর্শন করেন।
চিফ হুইপ বলেন, বিএনপির এখন এক দফা। এই এক দফা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে বাদ দিলে তাদের সকল দাবি-দাওয়া পূরণ হয়ে যাবে। কেয়ারটেকার সরকারের জন্য তারা দেশি-বিদেশি সকলের কাছে যে মায়াকান্না করছে এতে আমাদের আনন্দ হয়। কারণ এই কেয়ারটেকার সরকারের জন্য আমি দুই বার সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলাম। কেয়ারটেকার সরকার আমরা করেছিলাম একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন করার জন্য। কেয়ারটেকার সরকার নষ্ট করেছে বিএনপি। তাদের প্রেসিডেন্টকে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান বানিয়ে কেয়ারটেকার সরকারের সিষ্টেমকে নষ্ট করেছে। যার কারণে আদালত থেকে এই কেয়ারটেকার সরকার বাতিল হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে এখন আর কেয়ারটেকার সরকার হবে না। খালেদা জিয়াই বলেছিল এই দেশে কোনো নিরপেক্ষ লোক নেই। শিশু আর পাগল ছাড়া কোনো নিরপেক্ষ লোক নেই। তখনি যখন আপনি নিরপেক্ষ লোক পাননি, এখন এত বছর পরে শিশু আর পাগল নিয়ে এসে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান বানাবেন। এটা শুধুমাত্র দেশের উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য একটা ষড়যন্ত্র। আর সবচেয়ে বড় কথা আমাদেরও এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনার অধীনে সংবিধানের অধীনেই নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ। কেউ এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আ. লতিফ মোল্লা, ইউএনও মো. রাজিবুল ইসলাম, পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, শিবচর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. এমদাদুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব শাজাহান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম, দক্ষিন বহেরাতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও নূর-ই-আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অলিউল্লাহ খালাসীসহ আরও অনেকে।
