বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৮৬ শতাংশ হিসাবই গ্রামের

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩, ০৬:০০

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবং সেটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষই এই মাধ্যমের সেবায় বেশি সম্পৃক্ত হয়েছে। এর প্রমাণ মেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনের এই তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত জুন প্রান্তিক শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট হিসাব ছিল এক কোটি ৯৮ লাখ ৫২ হাজার ২৪০টি। আর এই হিসাবের ৮৬ দশমিক ৪৮ শতাংশই ছিল গ্রামের মানুষের। বাকি ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশের সম্পৃক্ততা মিলেছে শহরের অধিবাসীর। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কর্মকাণ্ডের হিস্যায় প্রতি বছর বাড়ছে গ্রামনির্ভরতা।

তথ্যমতে, এসব হিসাবের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণও ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। এই সময়ে নারীদের হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। ৯৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০৭টি, যা মোট হিসাবের ৪৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। যা গতবছরের একই সময়ে ছিল ২৮

হাজার ৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমানতের পরিমাণ ১৯ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এই আমানত রাখছেন। অর্থাৎ ৭৭ দশমিক ০৩ শতাংশই তাদের আমানত। গত তিন মাসে গ্রামে আমানত বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ আর শহরে বেড়েছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে আবার সিংহভাগই নারীদের আমানত। তবে গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিং বিস্তৃত হলেও সেই তুলনায় এর মাধ্যমে ঋণ বিতরণের পরিমাণ মাত্র ১৩ হাজার ৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো গ্রাম থেকে আমানত সংগ্রহ করলেও সেভাবে ঋণ বিতরণ করছে না।

দেশের সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতেই ২০১৪ সালে চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম। এ জন্য বাড়তি চার্জ গুনতে হয় না গ্রাহককে। ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগও পাচ্ছেন তারা। এতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা, সেই সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও।

ততটা সহজ নয়। কারণ, ঋণ বিতরণ করলে সেটা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা বিবেচনা করেই ঋণ বিতরণ করতে হয়। সেজন্যই আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ কম হচ্ছে তবে আগামীতে ঋণ বিতরণ আরও বাড়বে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব উপায়ে কৃষিঋণ বিতরণের একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যা ব্যাংকগুলোকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, সঠিকভাবে পরিচালনা করলে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত আমানতের অর্থে সিংহভাগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ করা গেলে তা গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাকে আরও শক্তিশালী ও সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা। রাখবে। আগামী দিনে সেই চেষ্টাই করা হবে বলেও জানান তারা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩১টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব ব্যাংকের মোট এজেন্টের সংখ্যা ১৫ হাজার ৫১০টি। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৪ হাজার ২৯৯টি। একই সময়ে আউটলেট ১৯ হাজার ৭৩৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ২৮৮টি। এসব এজেন্টের ৮৬ শতাংশ ও আউটলেটের ৮৭ শতাংশই গ্রামে।

একই সময়ে এজেন্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্সের পরিমাণও বেড়েছে। এ সময়ে এক লাখ ২৯ হাজার ৭৯১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পর ২০১৪ সালে প্রথম এ সেবা চালু করে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া। এখন পর্যন্ত এ সেবায় শীর্ষে অবস্থান করছে বেসরকারি খাতের ডাচ-বাংলা ব্যাংক। এরপরই রয়েছে ব্যাংক এশিয়া এবং

ব্যাংকাররা বলছেন, আমানত সংগ্ৰহ ব্যাংকের জন্য যতটা সহজ, ঋণ বিতরণ করা ইসলামী ব্যাংক।

ইত্তেফাক/এমএএম