আমি খুবই টেনশনে ছিলাম: গোলরক্ষক আসিফ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩৬

রাজধানীর কমলাপুর স্টেডিয়ামে বাফুফের এলিট একাডেমি। অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ হয় দুই বছর ধরে। ক্যাম্পে প্রায় ৬০ জন ফুটবলার রয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ১০ জন ফুটবলার নিয়ে নিলাম হয়েছে। নিলাম হবে এই খবর আগেই জানা ছিল সবার। তাই তড়িঘড়ি করে দুপুরে ভাত খেয়ে সবাই টিভি রুমে হাজির। ১০ ফুটবলারের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে আর টিভি রুমের ভেতরে উল্লাস। খেলোয়াড়রা উল্লাসে ফেটে পড়ছিলেন। টিভি রুমের আওয়াজ বাইরে ছড়িয়ে যাচ্ছিল। চন্দন, রুবেল, আসাদুল, ইমরান, সুমন, আসিফ, মিরাজুলদের মধ্যে তখন উত্কণ্ঠা। কার কত টাকা দাম ওঠে, কে কি বলে তা শোনার জন্য উদগ্রীব। সবার চোখ টিভির পর্দায়। নাম ঘোষণার সময় সবাই নীরব। পিনপতন নীরবতা। দাম ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আওয়াজ শুরু হয়। এক ক্লাব দাম বলে, অন্য ক্লাব দাম বাড়ায়। বাড়লেই সবাই উল্লাসে মেতে উঠে।

এদের মধ্যে আসিফ ক্যাম্পে খুব জনপ্রিয়। খাগড়াছড়ি ছেলে আসিফ সবার সঙ্গে দুষ্টুমি করেন। সবার সঙ্গে সম্পর্কটাও ভালো। বলছিলেন,‘আমি সবার সঙ্গে মজা করি। দুষ্টামি করি বলে সবাই আমর সঙ্গে মেতে থাকে। এক সঙ্গে নিলাম অনুষ্ঠান দেখেছি। কোনো দিন ভাবিনি নিজেদের খেলা নিয়ে এভাবে দাম হাঁকাবে। ক্রিকেটে নিলাম দেখেছি। কিন্তু ফুটবলে আমরাই যে ইতিহাস হবো সেটা ভাবিনি।’

সবচেয়ে দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে গোলকিপার আসিফকে। ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়ায় অন্য ফুটবলাররা তাকে জড়িয়ে ধরেছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন। আসিফ নিজেও জানতেন না তার দাম এত উঠবে। টিভির পর্দায় সবার অপলক চোখ। ‘এ’ ক্যাটেগরির এই গোলরক্ষকের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৫ লাখ টাকা। সেই ফুটবলারের দাম উঠেছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার। আসিফ বললেন,‘আমি তো খুবই টেনশনে ছিলাম। দুই বড় বড় ক্লাব আমাকে নিয়ে টানাটানি করছিল। আবাহনী ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। কিংস এখন দেশের ফুটবলের বড় অংশ। সবারই স্বপ্ন থাকে এ ধরনের ক্লাবে খেলা। আমি দোয়া করছিলাম। ভালো কিছু হোক।’ বসুন্ধরা কিংসে জাতীয় দলের আনিসুর রহমান জিকো রয়েছেন। এই দলে গেলে আসিফ একাদশে খেলতে পারবেন না। সেটা মানতে রাজি না আসিফ। তার কথা হচ্ছে সবকিছু নিজের ওপর। আমি চেষ্টা করব জিকো ভাইয়ের কাছ থেকে শেখার। আমাকে আমার পরিশ্রম দিয়ে তুলে নিতে চাই।’

বাবা সুলতান ভুঁইয়া এক সময় ফুটবল খেলতেন। চাচা খেলতেন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই আসিফ গোলরক্ষক হয়েছেন। চট্টগ্রামে হাটহাজারিতে ফুটবল একাডেমিতে খেলা শুরু করলেও জাতীয় দলের গোলরক্ষক আশরাফুল রানার হাত ধরে শেখ রাসেলে অনেক দিন অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিলেন আসিফ। পরে মুক্তিযোদ্ধায় গেলে সেখান থেকে জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লবের হাত ধরে বাফুফের এলিট ক্যাম্পে ঢোকা আসিফের।   

ইত্তেফাক/জেডএইচ