নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের গেটে রিকশার জট। ভেতরে ঢোকা যাচ্ছিল না। এ সময় একটি অ্যাম্বুলেন্সও আসে। তড়িঘড়ি রিকশা ও অটোচালকরা নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্সটি ভেতরে ঢুকতে রাস্তা ছেড়ে দিলেন। তবুও সমস্যা। কারণ গেটের ভেতরেও অটোর জট। কারণ সামনে ছিল ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের মোটরসাইকেলের বহর।
ভরদুপুরে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের প্রবেশ পথের জঞ্জাল অন্যতম কারণ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের মোটরসাইকেলের বহর। হাসপাতাল চত্বরে তাদের মোটরসাইকেল রাখার ঘটনা দেখে বৃহস্পতিবার অনেক রোগী বিরক্তি প্রকাশ করেন। নিতাইগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আল আমিন আলম ছেলেকে নিয়ে এসেছিলেন ডেঙ্গু টেস্ট করাবেন। তার রিকশাও গেটে জ্যামে পড়েছিল। তিনি বললেন, ‘আমি ছেলের ডেঙ্গু টেস্ট করাতে এসেছি। ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা খুব জ্বালাতন করেন।’
এখানে বিক্রয় প্রতিনিধি পায়ে পায়ে হোঁচট খান। রোগী দেখলেই ওরা ছুটে আসেন। রোগীদের টিকিট ও প্রেসক্রিপশন চেক করেন। নগরীর বাবুরাইলের সৈকত, নয়াপাড়া এলাকার সাহারা খাতুন, বউবাজারের সুমন ও দেওভোগ আখড়া এলাকার লক্ষ্মীরানী ও সবিতা রাণী জানান, ‘ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের যন্ত্রণার শেষ নেই। ওরা পুরো হাসপাতাল দখল করে রাখে। হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের গ্যারেজের সামনে মোটরসাইকেল রেখে দিয়েছে সারিবদ্ধভাবে। এ জন্য হাসপাতাল চত্বরে কোনো অটোরিকশা ঢুকলে ঘোরাতে কষ্ট হয়। খোলামেলা হাসপাতাল চত্বর জ্যাম হয়ে যায়। এতে করে রোগীদের কষ্ট হয়, সে সঙ্গে কষ্ট হয় রোগীদের সঙ্গে আসা আত্মীয়স্বজনদের। ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সামনের ওষুধের দোকানদাররা জানান, বেশি উৎপাত হয় হাসপাতালের গেটের বাইরে মূল রাস্তায়। মূল রাস্তা বঙ্গবন্ধু সড়কে। সকাল ৮-৯টা থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কের পূর্বপাশে মোটরসাইকেল পার্কিং করে রাখে। এ কারণে রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। এ বিষয় দেখার কেউ নেই। হাসপাতালের সামনে প্রতিদিনই এই দৃশ্য চোখে পড়ে।’
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
