বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

৩৬৫ দিন কারাবন্দী জবি শিক্ষার্থী খাদিজা, দ্রুত মুক্তির দাবি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৩, ১৮:০৬

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৮ই আগস্ট) বেলা ১২টা দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্ত্বরে ব্যানার ও পোস্টার হাতে অবস্থান নিয়ে দ্রুত খাদিজার মুক্তির দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে খাদিজার মুক্তির দাবিতে মিছিল করেন তারা।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে গিয়েছিলাম। তারা বলে খাদিজা নাকি দেশদ্রোহীতার জন্য আইনের আওতায় রয়েছে। এটা নাকি তাদের আওতার বাইরে। খাদিজা কি চোর? সে কি ডাকাত? সে তো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে মানুষের অধিকার, বাক স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছে এটাই কি তার অপরাধ?

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসীব বলেন, সুস্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করে গত এক বছরে তিনবার খাদিজার শুনানি পেছানো হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী জানতে চেয়েছে তার দেশের অবস্থা কি? সে প্রশ্ন করেছে আমরা ভালো আছি না খারাপ আছি? এটাই যদি তার অপরাধ হয় তবে আমরা সবাই সেই দোষে অপরাধী। আমরা অতি দ্রুত তার মুক্তি চাই। যতদিন সেটা না হচ্ছে আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

খাদিজার মুক্তির দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ছবি: ইত্তেফাক

মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে খাদিজাতুল কুবরার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তিনি বলেন, এক বছর হয়ে গেল আমার মেয়ে কারাগারে বন্দী জীবনযাপন করছে। এই বন্দী দশার কারণে আমার মেয়ের পড়াশোনা নষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যেন আমার মেয়েকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক।

সমাবেশে উপস্থিত হয়ে খাদিজার বড় বোন মনিরা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বোনকে যখন ধরে নিয়ে গেছে তখন সে বলেছে আমাকে কেন আটকে রাখবে। যখন তাকে জেলে কাপড় দিয়ে আসতে যাই, তখন সে বলে আমার কোনো অপরাধ নাই। আমি কেন জেলে থাকবো? প্রথম দিকে কেউ আমাদের সহযোগিতা করে নাই। আত্মীয়-স্বজন সবাই দূরে সরে গেছে এই ভয়ে যে আমাদের সঙ্গে থাকলে তারাও নাকি ফেঁসে যাবে। নভেম্বরে তার পরীক্ষা, কারাগারে বসে সে কি প্রস্তুতি নেবে? তাকে এর আগেই দ্রুত জামিন দেওয়া হোক।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিকে আমরা সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে গিয়েছিলাম। প্রক্টর অফিস থেকে আমাদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। ওনাদের বক্তব্য হচ্ছে, সরকার আমাদের এখানে বসিয়েছে এখন এসব বিষয়ে কথা বললে আমাদের চাকরি চলে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি।

খাদিজাতুল কুবরা। ছবি: সংগৃহীত

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মিনহাজ উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে কারাগারে আছে এটি আমাকে খুব ব্যাথিত করে। খুবই অল্প বয়সী একটা মেয়ে একবছর ধরে কারাগারে রয়েছে। চিন্তা করে দেখেন সে কি ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে আছেন। আমরা একান্তভাবে চাই যেন এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়। যদি মামলা প্রত্যাহার করতে সময় লেগে যায় তবে তার যাতে দ্রুত জামিন দেওয়া হয়। সে যেন দ্রুত এই ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে পারে। অবিলম্বে তার জামিন মঞ্জুরের প্রত্যাশা রাখছি।

উল্লেখ্য, অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচারসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর কলাবাগান ও নিউ মার্কেট থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ। বার বার শুনানি পিছিয়ে মুক্তি মিলেনি খাদিজার। এদিকে গত জুলাইয়ে আপিল বিভাগের এক আদেশে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত (৪ মাস) তার জামিনসংক্রান্ত আবেদনের শুনানি স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখা হয়েছে।

ইত্তেফাক/পিও