কক্সবাজারে হামলা থেকে রক্ষা পেতে জাতীয় জরুরি নিরাপত্তা সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে সাড়া পেলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় তারা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে রামু উপজেলার রশিদনগর ধলিরছড়া উত্তর কাহাতিয়াপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রামুতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মা ও ছেলে-মেয়েসহ তিনজন। হামলায় মায়ের হাতের কব্জির হাড় ভেঙেছে। দাহ্য পদার্থে ঝলসে গেছে মেয়ের হাত।
আহতরা হলেন রামুর রশিদনগর ধলিরছড়ার উত্তর কাহাতিয়া পাড়ার মাহমুদুল হকের স্ত্রী তাসলিমা নুর শিউলী (৩৪), মেয়ে ফাতেমা মাহমুদ (১৭) ও ছেলে আবদুল্লাহ (১১)।
হামলাকারী প্রধান অভিযুক্ত সদ্যগত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় জখমের পর তিনদিন চেষ্টা করেও থানায় মামলা করাতে পারেননি আহতরা। পরে সোমবার দুপুরে রামু উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে। চিকিৎসার সকল ডকুমেন্টস দেখে এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আসামিরা হলেন, রামুর রশিদনগর ধলিরছড়ার উত্তর কাহাতিয়া পাড়ার বাসিন্দা ও রশিদ নগর ইউনিয়নের সদ্যগত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোয়াজ্জম মোর্শেদ (৩০), তার ভাই রায়হানুল মোর্শেদ (২৮) ও পিতা মনজুর মোর্শেদ (৫৮)।
মামলার বাদী তাসলিমা নুর শিউলী জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী হিসেবে আসামি মনজুর মোর্শেদের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে বাদীর বাবার পূর্ব বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তার বাবা ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতো। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ আগস্ট বিকাল ৪টার পর পূর্ব পরিকল্পনায় আসামিরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, লাঠি নিয়ে তার বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর এসে পরিবারের সদস্যদের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বাদী বাড়ি থেকে বের হয়ে গালি দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করতেই অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি প্রহার শুরু করলে আঘাতে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল, ডান কাঁধ ও ডান হাতের কব্জির হাড় ভেঙে জখম হন। মাকে (বাদী) বাঁচাতে এলে ছেলে-মেয়েও প্রহারের শিকার হন। হামলাকারীদের ছুড়ে মারা দাহ্য পদার্থ পড়ে মেয়ে ফাতেমার হাতের কিছু অংশ ঝলসে গেছে। সারা শরীর থেতলানো ফুলা জখম হয়েছে সবার। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যাবার সময় অভিযুক্তরা হুমকি দিয়েছে হামলার বিষয়ে মামলা করলে খুন করবে। তাদের প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে। সেখানেই সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
আহত শিউলী বলেন, হামলাকালীন সময়ে আমার ভাই ৯৯৯-এ কল দিলে রামু থানায় সংযোগ দেওয়া হয়। এমদাদ নামে এক অফিসার ফোন ধরে ঘটনাস্থল জানার পর বলেছেন, এটা জমিজমার বিষয় নিয়ে গন্ডগোল, পুলিশ এসব বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না। খবর নিয়ে জেনেছি, নৌকা প্রতীকে চেয়রম্যান নির্বাচন হওয়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে এই অফিসারের আগে থেকেই সখ্যতা রয়েছে। এবং তাকে জানিয়েই হামলা করতে এসেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মোয়াজ্জেম মোরশেদ বলেন, এডিএম আদালতে রায় পাওয়া জমিতে আমরা ঘেরা দিতে গিয়েছিলাম। তারা আমাদের হামলা করতে এসে নিজেরা আঘাত পেয়েছে। আমরা কাউকে মারিনি বিষয়টি পুলিশও জানেন।
৯৯৯-এ সংযোগ পেয়ে সাহায্যপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমনটি জানতে রামু থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক এমদাদুল হকের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হয়। রিং হবার পর রিসিভ না করে লাইন কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, হামলার ঘটনার দু’তিন ঘণ্টা পর এএসআই এমদাদ এলাকায় এসে মোয়াজ্জেম মোরশেদের সঙ্গে দেখা করেন। এবং যাওয়ার সময় শিউলীর পরিবারের লোকজনকে উল্টো শাসিয়ে যান।
রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, আমি সোমবার থানায় নতুন ওসি হিসেবে যোগ দিয়েছি। আহতরা হয়তো আমার আগের জনের কাছে এসেছিলেন। আমাকে কেউ এ ব্যাপারে ব্রিফও করেনি। ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এলে, সর্বোচ্চ আইনি সেবা নিশ্চিত করা হবে।
