ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থী শনাক্তকরণের ডিজিটাল ডিভাইস কিনে দিতে চায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৩য় বর্ষের ভাইবা বোর্ডে নিকাব ও হিজাব পরিহিতাদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বুধবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে একদল শিক্ষার্থী। এসময় তারা এসব কথা বলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ২০২০-২১ সেশনের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন, 'শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করার জন্য হিজাব ও নিকাব খোলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থী শনাক্তকরণের জন্য আমরা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করার কথা বলছি। এতে তারা ব্যর্থ। তবে এক্ষেত্রে যদি আপনারা গরিব হন, অর্থের অভাবে বায়োমেট্রিক চালু করতে না পারেন তাহলে আমরা যৌথভাবে অর্থ সংগ্রহ করে দিতে রাজি। আর যদি এতে রাজি না হন তাহলে নারী শিক্ষক অথবা নারী কর্মচারী দ্বারা নারী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করুন। আমাদের বোনদের অযথা হয়রানি করা থেকে বিরত থাকুন।'
আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী কে এম ইমরান হোসেন বলেন, 'আপনারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করুন। অন্যথায় আপনারা যদি তা না পারেন, আপনাদের যদি অর্থ সংকট থাকে তাহলে আমাদেরকে বলেন। আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছি আমরা সকলেই মিলে অর্থ সংগ্রহ করে দেবো ও উন্নত প্রযুক্তি এনে দেবো যাতে করে আমার বোনদের আর হেনস্তার শিকার হতে না হয়।'
এসময় তারা কিছু দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো: শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের তৃতীয় বর্ষের ভাইভা বোর্ডে পর্দানশীন শিক্ষার্থীদের হেনস্থার সুষ্ঠু তদন্ত করা ও নিকাব পরিধান করায় ভাইভা না নেওয়া শিক্ষার্থীর ভাইভা নেওয়ার ব্যবস্থা করা, অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন কর্তৃক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উগ্রবাদী দলের সদস্য অপবাদ দিয়ে ভিক্টিম ব্লেমিং করায় ও পর্দানশীন মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে না এসে বাসায় পড়াশোনা করবে বলে বর্ণবাদী মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, বাংলা বিভাগ কর্তৃক পরীক্ষা চলাকালীন কানসহ মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রাখা সংক্রান্ত নোটিশ বাতিল করা, পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা, দ্রুততম সময়ে সকল অনুষদের সকল বিভাগে হিজাব-নিকাব পরিধানকারী শিক্ষার্থীদেরকে হেনস্থা করা বন্ধে নোটিশ প্রদান করা, বিভিন্ন সময়ে ক্লাসরুমে, ভাইবা বোর্ডে অথবা পরীক্ষার হলে নিকাব খুলতে বাধ্য করা অথবা কটূক্তির মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি করার মতো ঘটনাগুলো তদন্তপূর্বক বিচারের ব্যবস্থা করা ও হিজাব বা নিকাব পরিধানে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বিধিতে ধারা যুক্ত করা এবং এসব ঘটনায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার দাবি। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

রাবিতে জবি শিক্ষার্থী খাদিজার মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা
নোবিপ্রবি আইআইএসের প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত