টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সাজনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে বিয়ে করার নোটিস ও চাকরি খাওয়ার হুমকির বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
এখতিয়ার বহির্ভূত ও অশোভনীয় কাজের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে।
জানা যায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গত ২৬ জুলাই হিন্দু ধর্মবিষয়ক শিক্ষক রনি প্রতাপ পালকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিয়ে করার নোটিস দেন। অন্যথায় চাকরিচ্যূতির কথা বলা হয়। ধর্মীয় রীতিনীতি এবং গোত্র বর্ণের সমস্যায় পাত্রী বাছাইয়ে সময় লাগার কথা জানিয়ে আগামী অগ্রহায়ন পর্যন্ত বিয়ের সময় প্রার্থনা করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিয়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। অনবরত চাপাচাপির পর গত ২৩ আগষ্ট অফিসে ডেকে নিয়ে সকল শিক্ষকের সামনে প্রধান শিক্ষক প্রাণনাশের হুমকি দিলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পরদিন থানায় জিডি করেন। পরদিন দুর্নীতি এবং অসদাচরণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী স্কুল প্রাঙ্গনে মানব বন্ধন করেন। দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচারের পর বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নিদের্শে টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ঘটনা তদন্তে গোপালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজনীন সুলতানাকে আহবায়ক এবং জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ হোসেন ও সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করেন। কমিটি গত ২৭ আগস্ট শুধুমাত্র বিয়ে নোটিস সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় গত মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে রিপোর্ট জমা দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজনীন সুলতানা জানান, এর আগে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১২ দফা দুর্নীতি ও অসদাচরণ নিয়ে স্কুলের সকল স্টাফরা জেলা শিক্ষা অফিসে যে অভিযোগ করেন, সেটির তদন্ত কাজও প্রায় শেষ। সেটিতেও অনেক অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা জানান, তারা এখন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
