ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে এবার শিশু মৃত্যু হার বেশি। জ্বর হওয়ার পর দ্রুত প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে শিশুদের। শরীরে দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ফুসফুস ও ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিলম্বে শিশুদের হাসপাতালে নেওয়ার হয়। এ কারণে আইসিইউসহ সব ধরনের চিকিত্সা দিয়েও আর বাঁচানো যাচ্ছে না। অর্থাত্ ডেঙ্গুর শক সিনড্রোমে মারা যাচ্ছে শিশুরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, শিশুদের বয়স ও ওজন মেপে নির্ধারিত ম্যানেজমেন্টে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। রাজধানীর সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষরা বলেন, এবার শিশুদের জন্য ডেঙ্গু জ্বর বিপজ্জনক। অনেক অভিভাবক সচেতন না। পেটে ব্যথা, বমি, দুর্বলতা দেখা দেয় শিশুদের। কিন্তু অভিভাবকরা সচেতন না হওয়ায় বিলম্বে শিশুদের হাসপাতালে নেয়। তাই অভিভাবকদের সচেতন না হলে শিশুদের মৃত্যু আরো বাড়বে। রোগীরা যত দ্রুত সময়ে হাসপাতালে আসবে, তত ঝুঁকিমুক্ত থাকবে। শিশুদের জ্বর দেখা দিলেই চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩০৮ জন এবং এই সময়ের মধ্যে মারা গেছে ১৭ জন। ডেঙ্গুতে এক মাসে ৩০০-এর বেশি মৃত্যু প্রথম দেখল বাংলাদেশ; হাসপাতালেও ৭০ হাজারের বেশি রোগীকে আগে যেতে হয়নি। দুটো ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড গড়ে ডেঙ্গুর ভয়াল মাস হিসেবে দেখা দিল বিদায়ি আগস্ট। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আগস্ট মাসে ৩৪২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ৭১ হাজার ৯৭৬ জনকে। বাংলাদেশে এর আগে ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে ৫২ হাজার ৬৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এতদিন সেটাই ছিল এক মাসে ভর্তি রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা। আর এর আগে সারা বছরেও ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়নি। নতুন রোগীদের নিয়ে এই বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮০৮ জনে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯৩।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সাফি আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু এবার শিশুদের জন্য ভয়ংকর। শিশুদের পায়ে বেশি কামড়াচ্ছে মশা। কিন্তু অভিভাবকরা সচেতন না। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর শিশুর পেটে ব্যথা অনুভব করে। একই সঙ্গে বমি ও শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। এগুলো শক সিনড্রোমের লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেওয়ার আগেই, অর্থাৎ জ্বর হলেই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। ক্লাশ ওয়ান থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়া শিশুদের ফুল প্যান্ট ও ফুল হাতা জামা পরার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশা মারার ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইফফাত আরা শামসাদ বলেন, শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। ওজন ও জ্বর মেপে স্যালাইনসহ নির্ধারিত চিকিত্সা ম্যানেজমেন্টে রাখতে হবে। এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রচুর ডেঙ্গু শিশু রোগী আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের প্লাটিলেট কাউন্ট দ্রুত কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রেন ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে এবার শিশুরা বেশি মারা যাচ্ছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল গিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলম্বে শিশুদের হাসপাতালে আনার কারণে তাদের প্লাটিলেট কাউন্ট দ্রুত কমে গেছে। অনেকের ফুসফুস ও ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান।
