সিংগাইর উপজেলার অধিকাংশ সড়কের এখন বেহাল অবস্থা। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মাস্টার বলেন, ‘চাকুলিয়া থেকে সারারিয়া বাজার ও বালুর চর রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। যানবাহন চলতে পারে না। স্থানীয় সংসদ মমতাজ এখানে যতবার এসেছেন বলেছি। আমাদের দুর্ভাগ্য তিনি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ১৫ বছরেও সংস্কার হয়নি। নির্বাচন আসছে জনগণের কাছে কোনো মুখ নিয়ে দাঁড়াব।’
তালেবপুর ইউপি মেম্বার ইদ্রিস আলী বলেন, তার ইউনিয়নে গ্রামীণ রাস্তা ভেঙে শেষ করে দিচ্ছে বালু বহনকারী অবৈধ ১০ চাকার ডাম্প ট্রাক ও মাহিন্দ্র গাড়ি। কৃষক সর্বস্বান্ত হচ্ছে এবং ফসল কমে যাচ্ছে। জমি ভেঙে গেছে নদীতে। নদী খননের নামে স্থানীয় এক শ্রমিকলীগ নেতার দাপটে বালু লুট করে কোটিপতি হলেও সরকারের যে উদ্দেশ্য ছিল তা ভেস্তে গেছে। এতে করে রাস্তা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি কৃষকের হয়েছে সর্বনাশ।
তালেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রমজান আলী বলেন, ইসলাম নগর থেকে প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত সড়কের টেন্ডার হলেও কাজ শুরু হয়নি। ঠিকাদার মজলিসপুর-বায়রা রাস্তার সাব বেইজ করে রেখেছে দেড় বছর আগে। কার্পেটিং হচ্ছে না। বেইজ ও মেকাডামের ওপর দিয়েই চলছে গাড়ি। জামশা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী কামরুজ্জামান বলেন, সারারিয়া বাজার থেকে পালড়া মোড়, দক্ষিণ জামশা বাজার থেকে বরাটিয়া, পরিষদ থেকে বরুন্ডি, বশীর উদ্দিন স্কুল থেকে বরুন্ডি, চাকুলিয়া থেকে হাটিপাড়া পর্যন্ত সড়ক ভগ্নদশা।
এছাড়া বায়রা, বলধারা, শায়েস্তাসহ আরো ১০ থেকে ১৫টি গ্রামীণ সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কার্পেটিং উঠে গর্ত হয়ে গেছে। গর্তে বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে থাকায় হাঁটাচলা ও যান চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ভাঙা সড়কে যানবাহন আটকে ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। সারা দেশে যে পরিমাণে উন্নয়ন হয়েছে সেই তুলনায় এ উপজেলা এবং পৌরসভায় কিছুই হয়নি, এমনটাই বললেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নানসহ আরো অনেকে।
এদিকে পৌরসভার অবস্থাও নাজুক। সড়কের পাশে ভাঙা খোলা ড্রেন যেন মরণ ফাঁদ। পৌরসভা কার্যালয়ের সামনেই ড্রেনের ময়লা বর্জ্য পানি এখন সড়কে ভাসে। বৃষ্টি হলেই এ প্রধান সড়কে হাঁটাচলা দায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে খোলা ড্রেনে পা ফসকে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। বাসা বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে। এতে করে পচা দুর্গন্ধে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পৌরবাসী। দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর পাদুর্ভাব। ঢাকনা না থাকা ড্রেনের নোংরা পানি আর ময়লার ভাগাড় এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মশার উপদ্রপে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পৌরবাসী। বেশির ভাগ সড়কে বাতি না থাকায় অন্ধকার পরিবেশ। জলাবদ্ধতা দূর করতে দাইবাড়ির খালের সংস্কারকাজ থেমে গেছে। পৌরবাসীর অভিযোগ কর বেশি সেবা কম।
কৃষক জনতা লীগের নেতা আয়নাল হক বলেন, পৌরসভা হিসেবে যে সব সেবা পাওয়ার কথা এখানে তা নেই।
পৌর মেয়র আবু নাঈম মো. বাশার বলেন, সরকারের তহবিল নেই। দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ভালোই আছে। টেন্ডার হয়েছে, সমস্ত অলিগলির রাস্তা এক বছরের মধ্যে হয়ে যাবে। মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে ওষুধের কার্যক্ষমতা কম। নোটিশ করার পরও কেউ স্থাপনা ভাঙছে না। ফলে ড্রেন সংস্কার করা যাচ্ছে না। ইয়াবা খোররা বাতি চুরি করে নেয় বলে রাস্তা অন্ধকার থাকে।
