বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার ২৩ থেকে ২৫ জুন বগুড়া, রংপুর, লালমনিরহাট ও দিনাজপুর জেলা সফর করেছেন। তিনি এ সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেন এবং দুদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক অংশীদারত্বের বিষয়েও সমর্থন ব্যক্ত করেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত মিলার বগুড়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং ‘উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার’ হিসেবে বগুড়ার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয় অর্থনীতি এবং শিক্ষাখাতসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতার সম্ভাব্য খাতগুলো নিয়েও কথা বলেন তারা।
রংপুরে রাষ্ট্রদূত মিলার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়ে বিনিয়োগসহ সহযোগিতা বাড়ানো যায় এমন বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত জোইক্ক্য কৃষক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং নারী ও শিশুসহ গ্রামীণ ক্ষুদ্র পর্যায়ের কৃষকরা বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তাকে এগিয়ে নিতে কীভাবে ভূমিকা রাখছে তা সচক্ষে দেখেন।
রাষ্ট্রদূত মিলার জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ) এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সঙ্গেও সাক্ষাত করেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় যে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে কথা বলেন তারা।
প্রধানত, যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তৃতীয় যৌথ মহড়া ‘প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল’ পরিদর্শন করতে লালমনিরহাট সফর করেন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। এ মহড়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ এবং সিভিল-মিলিটারি অপারেশন। মিলার স্থানীয় কদমতলা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর কর্মীরা স্থানীয় জনগণের ওষুধপত্র বিতরণ এবং ফিজিক্যাল থেরাপি, দাঁত ও চোখের সমস্যার সেবা প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত ফকিরের টোকেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যে পাঁচটি স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত উন্নয়নসহ সংস্কারকাজ চলছে ফকিরের টোকেয়া সেগুলোর একটি।
রাষ্ট্রদূত মিলার ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম (আইভিএলপি) এবং কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি (ওয়াইইএস) প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে দেখা করেন। এই অ্যালামনাইগন এক্সচেঞ্জ কর্মসূচিতে অর্জিত শিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি তা শোনেন। দুই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীরা যেসব ক্ষেত্রে কাজ করছেন তার মধ্যে রয়েছে বহুত্ববাদ, সুশাসন ও মানবাধিকার ও শিক্ষা।
আরো পড়ুন : শহিদুল্লাহ হলের শিক্ষক কোয়ার্টারের সামনে থেকে নবজাতক উদ্ধার
উত্তরবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রদূত মিলার মহাস্থানগড়, কান্তজীর মন্দির ও তাজহাট প্রাসাদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানও পরিদর্শন করেন। এ সফর তাকে আবারো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং এর জনগণের সবার জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের গুরুত্বের কথাটি মনে করিয়ে দেয়।
ইত্তেফাক/টিএস
