বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

স্যুয়ারেজের ময়লা পানিতে সয়লাব থানা চত্বর-সড়ক

কেরানীগঞ্জে জনপ্রতিনিধির ঘুষ বাণিজ্যে তিন মাস যাবত দুর্ভোগ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:০০

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও থানার পশ্চিম পাশের সড়ক তিন মাস যাবত স্যুয়ারেজের ময়লা ও দুর্গন্ধ পানিতে সয়লাব। এতে থানার শতাধিক পুলিশ ও থানা রোডের আশপাশের কয়েক শ পরিবার ডায়রিয়াসহ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জিঞ্জিরা ইউনিয়নের এক জন জনপ্রতিনিধি মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে গত জুন মাসে মডেল টাউন থেকে একটি স্যুয়ারেজ লাইন থানা সড়কের পুরাতন স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে সংযোগ দেন। এর পর থেকেই গত তিন মাস ধরে থানা সড়কসহ স্থানীয় মসজিদ ও থানা চত্বর, থানার মেসের বেশির ভাগ জায়গা জুড়ে স্যুয়ারেজের ময়লা পানি জমে আছে। এ কারণে মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা ওয়াশরুমে যেতে ও গোসল করতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। থানার মসজিদের মুসল্লিরা ঠিকমতো মসজিদে ইবাদতের জন্য যাতায়াত করতে পারছেন না। প্রতিদিন স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহচ্ছেন। অনেক শিশু সড়কে হাঁটতে গিয়ে ম্যানহোলে পড়ে আহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন অর রশিদ জানান, পুলিশ ২৪ ঘণ্টা মানুষকে সেবা দেওয়ার পর যখন থানায় প্রবেশ করে, তখন হাঁটুপানি মাড়িয়ে তাদের ব্যারাকে যেতে হয়। স্যুয়ারেজের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানির গন্ধে শতাধিক পুলিশ সদস্য ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। থানার এসআই আবুল কালাম আজাদের শিশুকন্যা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি বিপদমুক্ত আছে।

তিনি বলেন, পানিবন্দি থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। থানা রোডের দন্ত চিকিৎসক মাসুদ আলম জানান, সড়কজলমগ্ন থাকায় গত তিন মাস ধরে দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ীর দোকান পানিতে তলিয়ে আছে। অনেকে আবার পুঁজি হারিয়ে এখন দিশেহারা। এলাকাবাসীকে প্রতিদিন বাসা থেকে কর্মস্থলে যেতে এবং সড়ক পার হতে রিকশা অথবা ভ্যানগাড়ির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রতিবার  ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা গাড়িভাড়া দিতে হয়।

এ বিষয়ে জিঞ্জিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকুর হোসেন সাকু জানান, এ বিষয় তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি এ ব্যাপারে  সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এদিকে মাসের পর মাস শত শত পরিবার পানিবন্দি থাকায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একাধিকবার অভিযোগ দিয়ে কোনো সুফল পায়নি। তাদের দাবি, অবিলম্বে স্যুয়ারেজ লাইনটি চালু করে এবং জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ইত্তেফাক/এমএএম