রৌমারীতে পানিবন্দী ২৫ গ্রাম, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৯:২৩

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় কুড়িগ্রামর রৌমারীতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২৫ গ্রামের ৪ হাজার পরিবার। বন্যায় তলিয়ে গেছে ৮৩৩ হেক্টর জমির ফসল। বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর চাক্তাবাড়ি, যাদুরচর নতুনগ্রাম, ঘুঘুমারী, সুখেরবাতি, নয়াপাড়া, পশ্চিম খেদাইমারী ও মশালের চর, বন্দবের ইউনিয়নের ফলুয়ারচর, বাঘমারা, পালেরচর, বলদমারাসহ প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষদের পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা ও কলাগাছের ভেলা। 

যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরবেশ আলী জানান, তার ইউনিয়নের পানিবন্দী ৩৩০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।  

তবে চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. তুহিন তার এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয় হয়নি উল্লেখ করে বলেন, ‘পানিবন্দী মানুষের মধ্যে এখনও ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।’
  
রৌমারী সদর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া এলাকার কৃষক মোতালেব হোসেন বলেন, ‘অনেক কষ্টে বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। কিন্তু বন্যার পানিতে সব ডুবে গেছে।’

চরশৌলমারী ইউনিয়নের মশালেরচর এলাকার দিনমজুর হাবিবুর রহমান জানান, পানি বাড়ায় তিনি দিনমজুরের কাজে যেতে পারছেন না। এতে দিনাতিপাত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই ইউনিয়নের পশ্চিম খেদাইমারী গ্রামের কৃষক ছফিযাল হক বলেন, তাঁর দুই বিঘা জমিতে রোপা আমন রোপণ করেছিলেন। কিন্তু জমির সব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী জানান, পানি বাড়ায় প্রায় ৮৩৩ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আমন ধানের ৭৮০ হেক্টর জমি, ৭ হেক্টর বীজতলা ও শাক-সবজির ৪৬ হেক্টর জমি।

রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেশকাতুর রহমান বলেন, ‘এই উপজেলার জন্য বরাদ্দ পাওয়া ৫১ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।’ 

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘পানিবন্দী পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

ইত্তেফাক/এএএম