দেশে শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে আবারও নৌকায় ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘কেরানীগঞ্জ এক সময় ছিল বাতির নিচে অন্ধকার। ঢাকার খুব কাছে হওয়ার পরও এখানে আগের সরকারগুলো বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত ও স্বৈরাচারী সরকারের আমলে তেমন কোনো উন্নয়ন করেনি।’
নসরুল হামিদ বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে শেখ হাসিনা সরকার কেরানীগঞ্জের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। এক সময় সন্ত্রাসের রাজত্ব, সন্ত্রাসের জনপদ বলে যে কেরানীগঞ্জ পরিচিত ছিল সেই কেরানীগঞ্জে এখন শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। সেই শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে সবার কাছ থেকে আবারও ভোট চান তিনি।
‘২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির আমানউল্লাহ আমানের সময়ে শুধুমাত্র ঢাকা-৩ আসনেই ১ লাখ ৩০ হাজার ভুয়া ভোটার ছিল। সারাদেশে ১ কোটি ২১ লাখ ভুয়া ভোটার করা হয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের সময়। যারা ভুয়া ভোটার লিস্ট করে, মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায় তাদের প্রতিহত করুন’
- নসরুল হামিদ, প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরতান্ত্রিক ও সামরিক একনায়কেরা যেসব দল গঠন করেছে সেই সব দলের নেতাকর্মীরা এখন গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু এ দেশে প্রথম অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে ভোট ডাকাতির সূচনা করেছিল অবৈধ প্রেসিডেন্ট জিয়া। তাদের নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।’
এসময় কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের কিছু উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০০ একরের বেশি জায়গায় দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস হবে এখানে। চার লেনের তিনটি রাস্তা হচ্ছে এখানে। এছাড়া, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ আরও অসংখ্য উন্নয়ন হয়েছে এখানে। প্রত্যেকটি গ্রামীণ রাস্তাঘাট এখন উন্নত হয়েছে। আগে যে রাস্তাগুলো মানুষ চলাচলের অনুপোযোগী ছিল এখন সেগুলো মানুষ চলাচল নির্বিঘ্ন হয়েছে।
জবি ক্যাম্পাস এলাকা সন্ত্রাসের কলঙ্কমুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় যে সন্ত্রাসের রাজত্ব, জনপদ বলে পরিচিত ছিল তা গত ১৫ বছরে কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। মানুষ এখন শান্তিতে আছেন। তাই মানুষ শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।’
ওই কর্মী সভায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ম. ই. মামুনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
