বাগমারায় জাল সনদে ১৮ বছর চাকরি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:৪০

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ১৮ বছর ধরে জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিনিয়র প্রভাষক পদের বেতন-ভাতার জন্য আবেদন করার পর সনদ ও নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে। তার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বাগমারা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক। এর আগেও ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে ইত্তেফাকসহ কয়েকটি পত্রিকায় খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও শাখা সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মণ্ডল ষষ্ঠ গ্রেডে বেতন-ভাতার জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী একাডেমিক সনদসহ চাকরির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করেন। এরপর যাচাই-বাছাইয়ে কারিগরি বোর্ড থেকে পাওয়া তার ছয় মাস মেয়াদি এনএসএস বেসিক কোর্সের সনদটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। কারিগরি অধিদপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ভোকেশনাল শাখার পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, জালিয়াতির তথ্য পাওয়ার পর ফৌজদারি আইনে মামলা করার জন্য বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে চিঠিটি বাগমারা থানায় পৌঁছে। বাগমারা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্মসচিবের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ও জালিয়াতির যাবতীয় কাগজপত্র তিনি পেয়েছেন। চিঠিতে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করার জন্য বলা হয়েছে।

নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে আব্দুর রউফ মণ্ডল সাচিবিকবিদ্যার প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। ঐ নিয়োগের জন্য কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যিক, পরিসংখ্যান, গণিত, অর্থনীতি বিষয়ের মধ্যে যে কোনো একটিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা এসব বিষয়ের একটিতে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ সনদ থাকার কথা নিয়োগ বিধিতে রয়েছে। নিয়োগের এসব শর্ত পূরণ না করেও আব্দুর রউফ ঐ পদে নিয়োগ পান এবং এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। পরে আব্দুর রউফ মণ্ডলসহ কয়েক জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরির অভিযোগ তদন্ত করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম আবু সুফিয়ান বলেন, কারিগরি অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে ঐ শিক্ষকের জাল সনদের বিষয়ে জানানো হয়েছে।

তবে পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ মণ্ডল তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, জাল সনদটি তিনি দাখিল করেননি। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাহলে কীভাবে তার নথিপত্রের সঙ্গে জাল সনদপত্র যুক্ত হলো, এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি