শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:৩৪

নিরাপত্তার অজুহাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন চালকরা। স্বাভাবিকভাবে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ট্রেন চলাচল শুরুর কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। রেলওয়ের লোকোমাস্টারদের এই ধর্মঘটের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ১৬ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় ট্রেন চালক ও গার্ডকে মারধর করে আটকে রাখায় নিরাপত্তার কথা বলে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন লোকোমাস্টাররা।

স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে এসেছে, নিরাপত্তার কারণে চালক ও গার্ড ট্রেন চালাতে রাজি নন। নিরাপত্তার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে তারা জানিয়েছে যে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, সকাল আটটায় একটি গণমাধ্যমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘আমরা ট্রেন চলাচলের বিষয়ে কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের জন্য আটটি বাস বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সকাল নয়টায় পাঁচটি ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এছাড়া, তিনটি একই সময়ে বটতলী থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে যাবে। ক্লাস-পরীক্ষা যথাসময়ে হবে।’

‘যখন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তখন বগি খালি ছিল। ছাদে ভ্রমণের প্রয়োজনই ছিল না। ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে দুর্ঘটনায় চালক ও গার্ডের কী দোষ? তাদের কেন মারধর করা হলো? নিরাপত্তার অভাবে আপাতত শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এখন থেকে ছাদে যাত্রী ভ্রমণ করলে ট্রেন না ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে’
- মো. আনিসুর রহমান, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা

বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. আবিদুর রহমান বলেন, ‘শাটল ট্রেনের চালক ও হেলপারকে মারধরের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যখন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তখন বগি খালি ছিল। ছাদে ভ্রমণের প্রয়োজনই ছিল না। ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে দুর্ঘটনায় চালক ও গার্ডের কী দোষ? তাদের কেন মারধর করা হলো? নিরাপত্তার অভাবে আপাতত শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এখন থেকে ছাদে যাত্রী ভ্রমণ করলে ট্রেন না ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী ট্রেনের ছাদে যাওয়ার সময় চৌধুরীহাট এলাকায়শাটল ট্রেনের ছাদে চড়ে যাওয়ার সময় হেলে পড়া গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৬ শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুরসহ ব্যাপক তাণ্ডব চালায় এবং ট্রেনের চালক ও গার্ডকে মারধর করে ট্রেন আটকে রাখে।

ইত্তেফাক/এইচএ