নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিশেহারা মানুষ, সহযোগিতার আশ্বাস প্রশাসনের

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২১:২৮

মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে জেলা বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ কেউ আবেদন করলে তাদের আশ্রায়নসহ সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসন।
 
মাদারীপুর জেলার ৩ উপজেলার শত শত পরিবার পড়েছে ভাঙনের মুখে। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। জেলা সদর, রাজৈর উপজেলার কুমার নদ ও কালকিনির আড়িয়াল খাঁ নদ, আপার কুমার নদ, লোয়ার কুমার নদ ও টরকী নদীর ১৫টি স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনের কবলে পরে দিশেহারা অনেক পরিবার। নদী ভাঙ্গন রোধে সরকারেরর সহযোগিতা কামনা করেন নদী ভাঙনের শিকার পরিবার।

রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় মল্লিক কান্দি গ্রামের ছামাদ মলি­ক জানান, আমাদের এই এলাকায় কুমার নদের ভাঙ্গনে পূর্বে প্রায় ৫০টি বাড়ি, জমি ও পাকা রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে ও বর্তমানেও অনেক বাড়ি, ফসলি জমি ও পাকা রাস্তা হুমকির মুখে রয়েছে। 

একই এলাকার বিকাশ জানায়, প্রতি বছর নদী ভাঙনের কারণে এখানকার মানচিত্র পাল্টে গেছে। দ্রুত নদী ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে আরও ক্ষতির সম্মুখিন হবো।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামের মালাই সরদার। ১০৫ বছর বয়সে বারবার শিকার হয়েছে নদী ভাঙনের। এমন কি সহধর্মিনী ৮৫ বছরের ফুলজান বিবিও স্বাক্ষী নদী ভাঙনের। এই দম্পত্তি ৩ বার নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে সদর উপজেলার জাফরাবাদ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে গড়েছিল নিজেদের বসতি। জীবনের শেষ বয়সে এসে আবারও ভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানোর দ্বারপ্রান্তে পরিবারটি। বাড়ির সামনে নদীর পারে বসে সর্বনাশা আড়িয়াল খাঁর ভাঙন দেখছে বাকরুদ্ধ হয়ে। বুকের গভীরে অনেক অভিমান অভিযোগ থাকলেও বাধরুদ্ধ এই পরিবারের মুখে যেন কোনো ভাষা নেই। বারবার ভাঙনের কথা আর সরকারের কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া কিছু বলতে পারছে না মালাই সরদার ও ফুলজান বিবি। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙনরোধে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই দাবি ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের।

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানাউল কাদের খান জানান, জরুরিভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা যাবে না। এজন্য বড় আকারের প্রকল্প করে রোধ করতে হবে নদী ভাঙন। 

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান জানান, নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে আশ্রয়নসহ সকল ধরণের সাহায্য করা হবে।

ইত্তেফাক/পিও