ভুটানে ফুটবলারের বেতন ৩০ হাজার টাকা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:০০

ভুটানের বিপক্ষে খেলেছেন। ভুটান সম্পর্কে কমবেশি জানা ছিল। কিন্তু ভুটানে না গেলে সেখানকার ফুটবলের অনেক কিছু জানতে পারতেন না সাবেক ফুটবলার আজমল হোসেন বিদ্যুৎ। ভুটানের প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের একটি দল থিম্পু র্যাভেন এফসির হেড কোচের দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যুৎ। ঢাকায় ফিরেছেন তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ বলে। নতুন পাসাপোর্টের আবেদন গতকালই জমা দিয়েছেন। দু-এক দিনের মধ্যে পেয়ে গেলে আবার উড়াল দেবেন ভুটানে। দুই মাস ভুটানের ফুটবলের সঙ্গে বসবাস করে এসেছেন বিদ্যুৎ। কল্পনাও করতে পারেননি ভুটানের ক্লাব ফুটবলে পারিশ্রমিকের এমন করুণ হাল। বিদ্যুতের দলের ১৭ ফুটবলারের মাসিক বেতন  ৫ হাজার টাকা করে। পুরো দলের বাজেট ২৫ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারে প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের অঙ্ক শুনিয়েছেন,‘ ১৫ বছর আগে আমি ক্লাব ফুটবলে খেলে ১৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম। আর এখন তপু-জামালদের মতো একজন ফুটবলার ক্লাবে পারিশ্রমিক পান কোটি টাকা। এসব কথা শুনে ভুটানের ফুটবলারদের চোখ কপালে উঠে যায়।’

ভুটানের শীর্ষ ক্লাব পারো এফসি, ট্রান্সপোর্ট এফসি, থিম্পু সিটির মতো কয়েকটি ক্লাবের ফুটবলাররদের বেতন মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এই দলগুলোর ফুটবলাররাই মূলত জাতীয় দলের খেলেন। টাকার হিসাবে বিচার করলে বাংলাদেশের ধারের কাছেও নেই ভুটান। বিদ্যুতের দলের দুই জন ফুটবলার স্কুলছাত্র, কেউ পাহাড়ে কাজ করে, মাটি কাটার পর সেগুলো ট্রলি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেন, দুই জন চাকরি করেন আর একজন সারা রাত বাবার ডিস্কোতে কাজ করেন। সকালে সে আর অনুশীলন করতে পারেন না। বিদ্যুৎ জানালেন দুই মাসে ৫ টা ম্যাচ অনুশীলন করিয়েছি, এখনও ১৩ ম্যাচ বাকি। খেলার এক সপ্তাহ আগে কেউ অনুশীলনে আসে না। খেলার দুই দিন আগে সবাইকে পাওয়া যায়। ম্যাচে নেমে কথা শোনে না। মনে করে ওরাই সব জানে। ১০ দলের মধ্যে আমার দল থিম্পু র্যাভেন এফসি ৯ নম্বরে। ওখানে প্রেস কনফারেন্সে জিগ্যেস করলে আমি বলে দিই, প্লেয়াররা কথা শোনে না। ভুটানের প্লেয়াররা পরিশ্রম করতে চায় না।’  

ভুটানের ফুটবল লিগে মোট পাঁচ জন বিদেশি রেজিস্ট্রেশন করা যায়। আর ৪ জন খেলতে পারেন। বিদেশিরাই মূলত দলগুলোর শক্তি। টাকা কম তাই জাতীয় দলের ফুটবলার চেনচো ইন্দোনেশিয়ায় খেলেন। ভুটানে সর্বত্রই টার্ফ। একাডেমি আছে। বাবা-মা মাসে ২ হাজার টাকা দিয়ে সপ্তাহে দুই দিন ফুটবল কোচিংয়ে পাঠান। জাপানি কোচ ফুটবল শেখাচ্ছেন। অনূর্ধ্ব—১৬, ১৯ এবং ২৩ বছর বয়সিদের জন্য একডেমি রয়েছে। বিদ্যুৎ বললেন, ‘আমি এক সপ্তাহ বিনা টাকায় ফুটবল কোচিং করিয়েছি সেখানে। বাচ্চারা জিগ্যেস করে টাকা দিতে হবে কি না। টাকা ছাড়া ফুটবল শেখা যায় না।’ লিগে যারা খেলেন তারা নাকি বাংলাদেশের লিগে খেলার মতো না। মান খুবই নিচে। ব্যাসিক ফুটবল খুবই দুর্বল। তাহলে বাংলাদেশকে কীভাবে হারিয়ে দিয়েছিল ভুটান? বিদ্যুৎ বললেন, ‘ওদের (ভুটান) শক্তির জায়গাটা হচ্ছে ভুটানিজরা পাহাড়ি অঞ্চলে ওঠানামা করেন। পাসিং ফুটবল খেলে। বাংলাদেশের ফুটবল ব্যাসিক অনেক ভালো। ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে এগিয়ে।’ তাহলে ফিফার র্যাংকিংয়ে ভুটান (১৮৫) কেন বাংলাদেশের (১৮৯) চেয়ে এগিয়ে? বিদ্যুৎ বললেন, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কারণে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যায়।   

ইত্তেফাক/এএইচপি