বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পড়াশোনার ভয়ে ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই দেশ ছাড়তে চেয়েছিল শিশু জোনায়েদ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৮:৫৯

পড়াশোনার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। তাই ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে উঠে পড়ে জোনায়েদ মোল্লা নামে ওই শিশু। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জোনায়েদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য পাওয়া যায়।

এর আগে, মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে উঠে পড়ে। এসময় কেবিন ক্রু তাকে সিটে বসতেও দেয়। একপর্যায়ে শিশুটি যেই সিটে বসেছিল পাশের সিটের যাত্রী শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে বসতে বলে। কিন্তু সে তার বাবা-মায়ের বিষয়ে কোনোকিছু বলতে পারেনি। পরে তার কাছে ভিসা-পাসপোর্ট পাওয়া না গেলে তাকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে ওইদিন রাতে শিশুটিকে তার চাচা ইউসুফ মোল্লার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জোনায়েদের চাচা ইউসুফ মোল্লা ইত্তেফাককে জানান, দশ বছরের শিশু জুনায়েদ মোল্লা। সে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার কৃষক ইমরান মোল্লার ছেলে। সে স্থানীয় মাদরাসায় পড়াশোনা করতো। তারা দুই ভাই ও এক বোন।

পড়াশোনার জন্য চাপ দিলে এবং মাদরাসায় যাওয়ার কথা বললেই বাসা থেকে পালিয়ে যেত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত এক সপ্তাহ আগে জুনায়েদ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দর থানা পুলিশের মাধ্যমে পরে ভাতিজাকে খুঁজে পেলাম।

এদিকে, পাসপোর্ট, ভিসা, বোর্ডিং পাস ছাড়া একজন শিশু কীভাবে প্লেনে উঠে গেলো এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, বিমানবন্দরে কর্মরত প্রত্যেক কর্মী ডিউটি পাস ব্যবহার করে চলাফেরা করের। বাকি যারা যাত্রী তারা পাসপোর্ট এবং বোর্ডিং পাস দিয়ে চলাফেরা করেন। এছাড়া বিমানবন্দরে ঢুকে ইমিগ্রেশনসহ আট থেকে ১০টি ধাপ পেরিয়ে প্লেনে চড়তে হয়। কিন্তু কীভাবে সে এসব বাধা পেরিয়ে প্লেনে উঠে, প্রশ্ন সবার।

বিমানবন্দর থানার ওসি আজিজুল হক মিয়া বলেন, বিমানে উঠে যাওয়া ওই শিশুটিকে এভসেক কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করে। পরে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটিকে তার চাচা ইউসুফ মোল্লার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা বেষ্টনী ডিঙিয়ে পাসপোর্ট-টিকিট ছাড়াই এক শিশুর বিমানে উঠে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বরত ১০ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জে/এবি