বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চলনবিলে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়, দিগন্ত জুড়ে স্বচ্ছ জলরাশি

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:৫০

দিগন্ত জুড়ে স্বচ্ছ জলরাশি। দুই চোখ যেদিকে যায়, শুধু পানি আর পানি। তাতে খেলা করছে ছোট-বড় ঢেউ। সেই ঢেউ ভেঙে ছুটে চলেছে নৌকা। নৌকাগুলো এই বিল থেকে ঐ বিল পাড়ি দিয়ে ফিরছে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে। আর গ্রামগুলো যেন পানিতে ভাসছে। শরতে নীল আকাশ সেখানে এসেছে অন্য রকম মাদকতা। আর সেই স্বাদ নিতে প্রতিদিনি চলনবিলে ছুটে আসছেন অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঐতিহাসিক চলনবিলের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সিংড়া, গুরুদাসপুর উপজেলার প্রত্যন্ত বিলে আনন্দ উপভোগ করতে পড়ন্ত বিকালে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। চলনবিলের মনোমুগ্ধকর মিষ্টি বাতাস, মেঘের ছুটে চলা ও পানির ওপর ঢেউয়ের দৃশ্য নজর কেড়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের। প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চলনবিলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলেছেন তারা। অনেকেই আবার নৌকা থেকে ঝাঁপিয়ে বিলের পানিতে গা ভিজিয়ে গোসলও সেরে নেন। চলনবিল অঞ্চলের দীর্ঘ সড়কগুলোতে রয়েছে অসংখ্য ব্রিজ। বিলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কের ব্রিজগুলো যেন একেকটি বিনোদন স্পট। প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে ব্রিজগুলোতে।

চলনবিলে কীভাবে আসবেন: চলনবিলের কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, তা আগে ঠিক করতে হবে। রাজধানী ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে এবং বাসযোগে অতি সহজেই চলনবিলে আসতে পারেন। ট্রেনযোগে এলে ঢাকার কমলাপুর, বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম, উল্লাপাড়া, পাবনার বড়ালব্রিজ, চাটমোহর এবং নাটোর রেলস্টেশনে নামতে হবে। বাসযোগে আসলে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরের বিভিন্ন উপজেলাতে নামতে হবে। উপজেলা শহর থেকে অতি সহজেই চলনবিলের যে কোনো এলাকায় ভ্রমণ করা যাবে। সারা দিনের জন্য নৌকাভেদে ভাড়া ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ডিঙি নৌকায় বিভিন্ন স্পট থেকে উঠে অনায়াসে বেড়ানো যেতে পারে। চলনবিল অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা শহরে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।

চলনবিলে বেড়াতে আসা কয়েকজন জানান, এই বিলের পরিবেশ অনেক সুন্দর। এখানে নৌকা ভ্রমণ করতে অনেক ভালো লেগেছে তাদের। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে পানি আর মাঝের গ্রামগুলো। গ্রামগুলো অনেকটাই পরিকল্পিতভাবে বানানো হয়েছে বলে মনে হয়েছে। কেননা গ্রামগুলোর চারপাশে ইটের গাঁথুনি থাকায় পানির আঘাতে মাটি ভেঙে যায় না।

চাটমোহরের নৌকার মাঝি আশরাফুল জানান, বছরের অন্য সময় এই বিলে ফসল চাষ হয়। শুধু বর্ষায় এই বিলে নৌকা চলে। তাই তিনি জীবিকা নির্বাহের তাগিদে এই কাজ করেন তিনি। প্রতিদিন তার এক হাজার পর্যন্ত আয় হয়। তবে শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে ভিড় বেশি থাকায় আয়ও বেশি হয়।

চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক নুরজাহান বেগম মুক্তি বলেন, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলাঞ্চলে অসংখ্য মানুষের সমাগম হয়। তারা যেন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন সেজন্য আমরা তাদেরকে নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকি।

সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) হাবিবুল ইসলাম জানান, চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন বিল এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য ভ্রমণকারী আসেন। আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করি। যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা পর্যটকদের সমস্যা না হয়।

ইত্তেফাক/এসটিএম