মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে সাপে কাটা রোগী

ঝিনাইদহে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:০০

ঝিনাইদহ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাপের কামড়ের চিকিত্সার একমাত্র ওষুধ অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন নেই। এতে সাপের কামড়ে বিনা চিকিত্সায় মানুষ মারা যাচ্ছে। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনাম না থাকায় মানুষ ওঝার কাছে যাচ্ছে। সেখানে ঝাড়ফুঁকে রোগী সুস্থ হচ্ছে না, মারা যাচ্ছে।

সোমবার রাতে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল শৈলকুপা উপজেলার দিগনগর গ্রামের  নেকবর মিয়ার ৯ বছরের শিশু কন্যা তাবাসুম তমা। রাত সাড়ে ১১টার সময় তার হাতে সাপে কামড় দেয়। তাকে ৫০ মিনিটের মধ্যে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন নেই। তাকে মাগুরা হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগীর স্বজনরা শিশুটিকে মাগুরা  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক জানান, এ হাসপাতালেও অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন নেই। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।  একই দিন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে সিলখিয়া নামে পাঁচ বছরের এক শিশু সাপের কামড়ে মারা যায়। শিশুটিকে সাপ কামড়ালে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ওঝার ঝাড়ফুঁকে কোনো কাজ হয় না। শিশুটি মারা যায়। চলতি মাসেই এ জেলায় সাপের কামড়ে আরো দুই জন মারা গেছে। ঝিনাইদহ জেলায় সাপের উপদ্রব বেশি। প্রতি বছর এ সময় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস যাবৎ ঝিনাইদহ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন নেই। সাপে কামড়ানো রোগী আসলে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার সৈয়দ রেজাউল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন ফুরিয়ে যাওয়ার পর ইনজেকশন সরবরাহের জন্য ঢাকায় চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইনজেকশন পাওয়া যাচ্ছে না। এ হাসপাতালে যখন ইনজেকশন ছিল, তখন চলতি বছর অন্তত ২৫ জন সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। এখন আমরা নিরুপায়।

সিভিল সার্জন ডা. শুভ্য রানী দেবনাথ বলেন, অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন ব্যয়বহুল। একজন সাপে কাটা রোগীকে সুস্থ করতে ১০ ভায়াল ইনজেকশন লাগে। তিনি এ ইনজেকশন সাপলাইয়ের জন্য বারবার ঢাকায় চিঠি লিখেছেন বলে জানান।

 

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন