এলজিআরডি’র সমন্বয়ের অভাবে ১০ কোটি টাকা জলে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২২:৩৮

শুরুতে সরকারি হালট ও খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করায় ব্রিজের সড়ক সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শনে পাল্টে যায় সবকিছু। অভিযোগ ছিল সরকারি জমিতে ভবন করায় আড়াল হয়ে গেছে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নশাসন কীর্তিনাশা নদীর ব্রিজ। এমন অভিযোগ মাপ-পরিমাপে দেখা যায় ভবনটি তার মালিকের নিজস্ব জায়গায়ই রয়েছে। বরং এলজিআরডি’র সমন্বয়ের অভাবেই এমন অবস্থা জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ পারভেজ ও স্থানীয় ভূমি অফিসের তসিলদার-আমিনের সমন্বয়ে পরিমাপ করে দেখা যায়, অভিযোগ ওঠা ভবনটি মালিকানা জায়গায়ই রয়েছে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, তিন জেলা প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সাল থেকে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৩২ মিটার প্রস্থ ব্রিজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ চলাকালে ব্রিজটির পূর্ব পাড়ে সরকারি হালটের বড় একটি অংশ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছিলো ডাক্তার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। পরে এ ব্যাপারে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ পারভেজ নিজে উপস্থিত থেকে নশাসন ইউনিয়নের তহশিলদার ও সরকারি আমিন এবং স্থানীয় আমিনের সমন্বয়ে মাপ করা হয়।

মাপ শেষে নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ পারভেজ সাংবাদিকদের জানান, এপ্রোচ সড়ক নিয়ে অভিযোগ উঠলে, আমি জায়গা মাপের আয়োজন করি এবং উভয়পক্ষকে উপস্থিত থাকতে বলি। আমার সার্ভেয়ার অফিসের তহশিলদার এবং স্থানীয় আমিনের সমন্বয়ে মাপের আয়োজন করা হয়। মেপে আমরা যা পাই তা হলো, অভিযোগ হওয়া সেই ভবনটি তার নির্ধারিত জায়গায়ই রয়েছে। আমাদের সরকারি জায়গা পাশেই আরও ছিল। এলজিআরডি যদি প্রথমেই আমাদের ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতো তাহলে এপ্রোচ সড়কটি আরও সুন্দরভাবে করতে পারতো। এখন এলজিআরডি তাদের আইন অনুযায়ী সমস্যার সমাধান করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এ ব্যাপারে ভবন মালিক ডা. গিয়াসউদ্দিন বলেন, ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক হচ্ছে আমার জায়গার ভিতর দিয়ে, আর বিভিন্ন লোকজন আমার ভবন সরকারি হালটে পড়ছে বলে প্রচার করলো, অথচ ভবনের সামনে এপ্রোচ সড়কের ভিতর আমার জায়গা রয়েছে। এখন আমার ভবনের সামনে দিয়ে যদি এপ্রোচ সড়কের ঢাল যায় তাহলে আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে, আমি ঘর থেকে বের হতে পারবো না। সরকার যেন তার নিজস্ব জায়গা দিয়ে এপ্রোচ সড়কটি করে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি এ ব্যাপারে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো তারপরে বলতে পারবো।

ইত্তেফাক/এমএএম