শিবচর উপজেলা হাসপাতালে বন্ধ হচ্ছে না দালালদের দৌরাত্ম্য

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ১৬:৪৪

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করতে গিয়ে নিজেই বিপাকে পড়েছেন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মোকাদ্দেস। গত বুধবার ২৬ জুন উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) বাস্তবায়ন বিষয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, পৌর মেয়র, ওসি, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ, সকল দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ডা. মোহাম্মদ মোকাদ্দেস তার বক্তব্যে বলেন, আমি দুই মাস হয় শিবচর উপজেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে শিবচর উপজেলা হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করার জন্য শিবচর থানা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে হাসপাতালের ভিতর থেকে পরপর তিনদিন অভিযান চালিয়ে তিনটি ক্লিনিকের চারজন দালালকে আটক করে থানায় দিয়ে দেই। এটা করতে গিয়ে আমি বিশাল জনরোষের শিকার হয়েছি। 

তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, আমার হাসপাতালের কিছু ডাক্তার আছে বহির্বিভাগে কোন রোগী আসলে তাকে অপ্রয়োজনীয় কতগুলো পরীক্ষা দেয়। কিন্তু কখনো রোগীদের বলে দেয় না যে, এই হাসপাতালে প্যাথলজিতেই  পরীক্ষা করা হয়। তাহলে আমি কি করে সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করবো। এই জন্য আমাকে অনেক কঠোর হতে হয়েছে। কিছু কিছু ডাক্তারকে আমি শোকজ করতে বাধ্য হয়েছি। আজ তারা কয়েকটি ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকের সাথে হাত মিলিয়ে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত করে যাচ্ছে। 

স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন বিষয়ে দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শামসুদ্দিন খান বলেন, শিবচরের মাটি ও মানুষের নেতা জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি শিবচরকে স্বাস্থ্যনগরী হিসাবে গড়ে তুলতে চান। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার হাসপাতালে যে সমস্ত পরীক্ষা হয় তার তালিকা হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে টাঙিয়ে দেন। তাহলে সাধারণ রোগীরা দালালদের প্রতারণায় পড়বে না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডা. মোহাম্মদ মোকাদ্দেসের উন্মক্ত বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনার বক্তবে আমারা খুশি এমন বক্তব্য বিগত দিনে কোন ডাক্তারের কাছ থেকে আমরা পাই নাই। আপনি যেই ভাবে সাহস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তার জন্য আমি আপনাকে অত্যন্ত ধন্যবাদ জানাই। মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে এগিয়ে যান। এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ সহযোগিতা আমরা করবো।

এ বিষয়ে শিবচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রিপন মোল্লা বলেন, বেশ কদিন আগে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতর থেকে কয়েকটি ডায়গনস্টিক ও ক্লিনিকের পৃথক পৃথক অভিযানে চার দালালকে আটক করি। পরে আকটকৃতদের মুসলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় ক্লিনিকের মালিকেরা এবং প্রতিশ্রুতি দেয় এই কাজের সাথে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্য আর জড়াবে না।

এ বিষয়ে শুক্রবার (২৮জুন) সকালে মোবাইল ফোনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও  পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মোকাদ্দেসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে বর্তমানে ৯জন চিকিৎসক রয়েছে যার মধ্যে ৪জন কনসালটেন্ট ও ৪জন মেডিকেল অফিসার। এই ৪জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি এবং বহি:বিভাগ চালাতে হয়। আমি এখানে যোগদানের পরে প্রথমেই হাসপাতালের ভিতরে ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকের দালালদের প্রবেশ নিষেধ করি। এই হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে আমি যোগদানের আগে কোন মাসেও ৫ হাজার টাকার বেশি আয় দেখাতে পারেনি। আমি দালাল মুক্ত করার মাধ্যমে আমার যোগদানের পরের মাসেই ১২হাজার টাকার বেশি আয় দেখাতে পেরেছি। আর এই কারণে আমি সাময়িক জনরোষে পড়েছি। এ বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।

ইত্তেফাক/এমআই