তামা চুরি: নাজেহাল জার্মান ব্যবসা

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৫:৩৩

জার্মানিতে নানা ধরনের ধাতু চুরি করছে কয়েকটি অপরাধী চক্র। নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক সংস্থাকে। তামার দাম বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের খবরে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গত কয়েক বছর ধরেই জার্মান রেল সংস্থা ডয়চে বানের সময়টা অনুকূলে নেই। বিগত দশকে ঠিকঠাক মেরামতের কাজ না হওয়ায় অবকাঠামোর বেহাল দশা, অর্থায়নেও তেমন সুখবর আসছে না। তার ওপর ২০২২ সালে ডয়চে বানের প্রায় ৭০ লাখ ইউরোর লোকসান হয়েছে তামা চুরির বাড়বাড়ন্তের ফলে, জানাচ্ছে জার্মান সংবাদপত্র হান্ডেলসব্লাট। চলতি বছর তামা চুরির ফলে দুই হাজার ৬৪৪টি ট্রেনের যাত্রা সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ৭০০ ঘণ্টা বেশি, জানাচ্ছে এই সংবাদপত্রটি।

অপরাধীরা শুধু ডাক্ট ভেঙে তামা বা অন্যান্য দামি ধাতু চুরি করে, যা শুধু যাত্রীদের হয়রানির কারণই নয় বরং দেশে সরবরাহ প্রক্রিয়াতেও তার প্রভাব পড়ে। ঘন ঘন ট্রেন দেরি হবার কারণে যাত্রীরাও হতাশ হচ্ছেন। কিন্তু এই বিপাকে শুধু ডয়চে বানই না, বিভিন্ন ভবন নির্মাণের জায়গা থেকেও চুরি হচ্ছে এসব মূল্যবান ধাতু। বাদ পড়ছে না তামার প্রলেপ দেওয়া গির্জার ছাদও!

সবচেয়ে নজরকাড়া তামা চুরির ঘটনা ঘটে হামবুর্গের তামা উৎপাদক ও পুনর্ব্যবহারকারী সংস্থা অরুবিসের সঙ্গে। সংস্থাটির পক্ষে জানানো হয়, প্রায় দুই শ’ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের তামা চুরি গেছে। আগস্টের শেষে যখন এই চুরির কথা প্রকাশ্যে আসে, অরুবিস জানায় যে এর পেছনে কাজ করছে একটি অপরাধী চক্র। ইউরোপের সবচেয়ে বড় তামা উৎপাদক সংস্থাটি জানায় যে এই চুরির ফলে বার্ষিক লাভের টার্গেট থেকে তারা অনেকটাই দূরে।

বৈদ্যুতিক প্রযুক্তিতে তামার গুরুত্ব অনেকটাই, কারণ কার্বন নিউট্রাল হওয়ার জন্য বেশ কিছু খাতে তামার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে বলে জানালেন আর্থ রিসোর্স ইনভেস্টমেন্টের প্রধান ইওয়াখিম বেরলেনবাখ।

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ভবিষ্যতে আরও বাড়বে তামার ব্যবহার ও চাহিদা। ডয়চে ভেলেকে বেরলেনবাখ বলেন, ভবিষ্যতে তামার দাম কতটা বাড়েতা নির্ভর করছে চীন ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে জীবনযাপনের মানের ওপর। যত এই মান উন্নত হবে, তত বাড়বে গাড়ি, বাতানুকূল যন্ত্রের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার, যার জন্য তামা অত্যন্ত জরুরি কাঁচামাল।

অন্যদিকে, তামার বাড়ন্ত চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না তামার উৎপাদন। চিলে বা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর মতো দেশে তামার পাশাপাশি রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতাও। ফলে নতুন করে তামা খননে বিনিয়োগ তখনই আসবে যখন বিনিয়োগ থেকে লাভের সুযোগ থাকবে। অরুবিসের হিসাবের খাতায় কলমে তামা চুরির বিষয়টি লুকিয়ে থাকায় বেশ অনেক দিন ধরা পড়েনি।

এছাড়া, বিশাল পরিমাণে চুরি হওয়া তামা ইউরোপের পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের বাজারে বিক্রি করা সহজ নয়, জানান জার্মান ধাতব পণ্য ব্যবসায়ী সংস্থার রালফ শ্মিটৎজ৷ জার্মান সংবাদপত্র টাগেসশ্পিগেলকে তিনি বলেন, ‘কী চুরি হচ্ছে তা ব্যবসায়ীরা জানেন৷ এই একই অবস্থা পাশের দেশ পোল্যান্ডেও৷ চুরি হওয়া তামার বড় অংশ ইউরোপে বিক্রি হয় না৷ আমার ধারণা, বেশিরভাগই কন্টেইনারে বিদেশে চলে যায়৷’

ইত্তেফাক/এমটি/এইচএ