চ্যানেল আইয়ের রজত জয়ন্তী আজ। একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলের ২৫ বছর পূর্তি অবশ্যই বড় ঘটনা। এই প্রাসঙ্গিকতায় ইত্তেফাকের কথা বলেছেন চ্যানেলটির কর্ণধার, প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর।
ঠিক ২৫ বছর আগে সিদ্ধেশ্বরীতে যে স্বপ্ন নিয়ে চ্যানেলটি শুরু করেছিলেন। আজকের অবস্থানে আপনার সেদিনের স্বপ্ন আর আজকের বাস্তবতার দূরত্ব কতটুকু?
স্বপ্নের পরিধি এতটা ছিল না। যা পেয়েছি অনেক! ভাবনারও অতীত! সত্যিই জানতাম না সেদিন যে, ২৫ বছরে একটি চ্যানেলকে মানুষ এত ভালোবাসবে।
আপনার নিজের কাছে মূল্যায়ন করা কঠিন, তবুও শুনতে চাই। বিগত সময়গুলো বিবেচনা করলে কোন প্রাপ্তির বিষয়টা এগিয়ে রাখবেন?
এই প্রশ্নটা আমার জন্য খুব কঠিন। কারণ এটা আমার সন্তানের মতো। চ্যানেল আই আজ এদেশের সৃজনশীল মানুষদের একটি পরিবার। শুধু বলতে পারি, এই ২৫ বছরে সারাবিশ্বের বাঙালিদের কাছে প্রিয় নামে পৌঁছাতে পেরেছে। আমরা সময়ের সাথে সাথে আধুনিক হয়েছি। কিন্তু দর্শকের হূদয় থেকে বের হইনি।
অন্য চ্যানেলের কাছ থেকে চ্যানেল আইয়ের পার্থক্য যদি আপনাকে বলতে বলা হয়, কী বলবেন?
আসলে আমরা সকলেই এই দেশকে সমৃদ্ধ করতে কাজ করি। তাই মিল যেমন থাকবে পার্থক্যও থাকবে। একটি বিষয় বলবো, চ্যানেল আই এমন কিছু করেছে যা এই উপমহাদেশের অনেক চ্যানেল পারেনি। আমরা শুরু করেছি। কারণ খুব সকালের একটি গানের লাইভ আয়োজন অনেক কষ্টের। মিউজিশিয়ান থেকে শুরু করে শিল্পীদের সম্মিলন করানো। আজকের এই ডিজিটাল যুগেও আমরা অনেক বাড়িতে কান পাতলে শুনতে পাই সকালে চ্যানেল আই খুলে রেখে কাজ করছে, নয়তো অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চ্যানেল আইয়ের দীর্ঘদিন ধরে একটি খবর শুনে আসছি, আপনারা আলাদা একটি স্পোর্টস চ্যানেল করবেন। এ বিষয়ে নতুন কোনো বার্তা দেবেন কী আজ?
দেখুন, চ্যানেল আই কিন্তু কখনোই খেলাধুলার বাইরে ছিল না। সবসময় এটিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা প্রথম টি-২০ ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করি। আমাদের রেডিও ভূমিতে যেকোনো খেলার ধারাভাষ্য এদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয়। পাক্ষিক আনন্দ আলো, আই স্ক্রিন থেকে শুরু করে সকল অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান খেলাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়। মহিলা ক্রিকেটদলকে এয়ারপোর্ট থেকে সংবর্ধনা দেওয়া থেকে শুরু দেশের যাবতীয় খেলার প্রধান ইভেন্টের সাথে চ্যানেল আই ছিল এবং থাকবে। তাই দর্শকের সেই কৌতুহলটাও আমরা পূরণ করেছি।
আপনারা চলচ্চিত্র নির্মাণে সবচেয়ে সরব। এছাড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে একাধিক ইভেন্ট পরিচালনা করছেন। এই বিষয়গুলো কিভাবে মূল্যায়ন করেন আপনি?
দেখুন, আমরা কিন্তু শুধু অনুষ্ঠান নির্মাণ বা প্রচারে সীমাবদ্ধ নই। গত ২৫ বছর শেষে আজ সাহিত্যে, গানে, অভিনয় থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে তাকিয়ে দেখেন, আমাদের প্লাটফর্ম থেকে তৈরি হওয়া তারকা শতকরা ৯০ ভাগ। তাদের কাজের অনুপ্রেরণা বলেন আর বিস্তৃতি বলেন, এ সকল ইভেন্ট একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক কাঠামো তৈরি করেছে। আজ চ্যানেল আইয়ের ঘরে ২৬০টিরও ওপরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আমরা সারাবছরে ২০০টিরও বেশি ইভেন্ট করি। এর ভেতরে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আছে অনেকগুলো। এগুলোই আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করছে।
আপনারা চ্যানেল আইয়ের পরিচালনা পর্ষদে অনেকে থাকলেও বলা হয়, আপনি ফরিদুর রেজা সাগর এবং শাইখ সিরাজ দু’জন হলেন তারকাদের তারকা। মূল কাণ্ডারি। কেউ কেউ বলেন চ্যানেলের কর্ণধার হিসেবে বিশ্বে কেউ এতটা জনপ্রিয় বা সম্মুখভাগে থাকেননি! কীভাবে এ কথার ব্যাখ্যা দেবেন আপনি?
আমরা দু’জনেই কিন্তু এই চ্যানেলটি করার আগে ভিন্ন এক সৃজনশীল মানুষ। কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অনেক টাকা করে কিন্তু চ্যানেল দিতে বসিনি আমরা। এই চ্যানেল একটু একটু করে শিল্পী-দর্শকরা প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদের দু’জনের ব্যক্তিসত্তার পরিচয়কেই আমরা উদযাপন করি এবং নিজেদের সৃজনশীল চিন্তাগুলোকে প্রসারের কাজ করে যাচ্ছি গোটা দেশকে নিয়ে। নিজের কথা না বলি, আজ শাঈখ সিরাজ এদেশের কৃষি গবেষণায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঘরে। এগুলো আমাদের একার নয়, দেশের জন্য গর্বের। আমরা রোজ সকালে এই চ্যানেলের দরজায় ঢুকি কোনো অফিসের বস হিসেবে নয়। একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবেই। তাই এটি আমার চ্যানেল না। আমাদের চ্যানেল হয়েছে। আজ চ্যানেলটির রজতজয়ন্তী। একদিন সূবর্ণজয়ন্তীও পালন করা হবে। সেদিন আমি, শাইখ সিরাজ বা আমাদের পর্ষদের কেউ থাকবো না। কিন্তু দেখবেন সেদিনও এটি এদেশের সাংস্কৃতিক পরিবার হিসেবে টিকে থাকবে। চ্যানেল আই সারাবিশ্বে তেমনই এক অনন্য মডেল।
