আইএমএফকে জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক

ঋণের শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ নেই

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:০০

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের অন্যতম শর্ত ছিল চলতি বছরের জুনের মধ্যে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে রাখা। তবে সেই শর্ত পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন শর্ত পূরণ সম্ভব হয়নি তা আইএমএফ মিশনের সঙ্গে বৈঠক জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ঋণের শর্তানুযায়ী যেসব সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে সে বিষয়ে আইএমএফকে জানানো হয়েছে। আর যেসব শর্ত পূরণ করতে পারেনি তার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, আইএমএফ ঋণ অনুমোদনের সময় আমাদের কিছু শর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে বেশকিছু শর্ত পূরণ করা হয়েছে। দুই-একটি জায়গায় ব্যর্থতা আছে। রিজার্ভ কিছু কম আছে। রাজস্ব আহরণ কম হয়েছে। তবে অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন প্রকাশের কথা ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশ করেছে। বিপিএমসিক্স অনুযায়ী রিজার্ভ হিসাবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া মুদ্রার বাজার নির্ধারিত বিনিময় হার প্রবর্তন করা হয়েছে। সুদহারের নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। তাদের দেওয়া যেসব শর্ত অর্জন হয়েছে তা জানিয়েছি আর যেগুলো অর্জন হয়নি সেগুলো কেন হয়নি তাও জানানো হয়েছে।

শর্ত পূরণ না হওয়া নিয়ে আইএমএফের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ মুখপাত্র বলেন, কেবল বৈঠক শুরু হয়েছে। আইএমএফ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে বসে আলোচনা করবে। প্রথমে তথ্য নিচ্ছে তারপর আবার বৈঠক করবে। আগামী ১৯ অক্টোবর শেষ মিটিং, সেখানে তাদের মতামত জানাবে। আমরাও আমাদের বিষয়গুলো জানাব।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রমতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ভর্তুকি রিজার্ভ, ব্যাংক, খেলাপি ঋণ, মুদ্রানীতি, অর্থ পাচার, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব পদ্ধতিতে সংস্কারসহ সামগ্রিক অর্থনীতির বিষয়ে আইএমএফের আলোচনা গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। দাতা সংস্থটির অনেক শর্ত পূরণ ছাড়াই আলোচনার প্রথম দিনে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অর্থ পাচার, সরকারের ভর্তুকি, মুদ্রানীতি, রিজার্ভের সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যাংকিং বিষয়াবলীর ওপর তদারকির বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আইএমএফের প্রথম বৈঠকে সংস্থাটির সফরকালীন কার্যক্রম ও পরিকল্পনার ওপর প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করা হয়।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফ  দল বাংলাদেশ ব্যাংকে বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন রিজার্ভের শর্ত পূরণ, রিজার্ভ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) অর্থসহ যা অন্যান্য ব্যয়যোগ নয়, তা বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের হিসাবে রিজার্ভ গণনা, বাজারভিত্তিক একক ডলার রেট বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখবে। আর্থিক খাতের সংস্থার, মুদ্রানীতি হালনাগাদ, বাস্তবায়নের দুর্বলতা, নীতির আলোকে সামনের দিনে সম্ভাব্যতা, ট্রেজারি বিলের সুদহার, স্মার্ট সুদহার পদ্ধতি, অর্থনীতিতে নতুন সুদহারের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণের নজরদারি রাখার লক্ষ্য দাতা সংস্থাটির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার। যদিও সংস্থাটির শর্তের আলোকে অক্টোবর মাসের জন্য নিট রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার থাকার কথা ছিল। আর গত জুনের মধ্যে রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে রাখার কথা ছিল, যা পূরণে ব্যর্থতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইত্তেফাক/এমএএম