বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

শ্রেণিকক্ষে আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক চান অভিভাবকরা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:০০

শিক্ষকতা কি শুধুই চাকরি, নাকি আরও অনেক কিছু? এমন প্রশ্ন ঘুরছে সর্বত্র। স্বাভাবিকভাবে এটি একটি চাকরি মনে হয়। শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য তারা প্রতিষ্ঠানে যান। আর মাস শেষ বেতন-ভাতা নেন। কিন্তু বিখ্যাত ব্যক্তিদের ধারণা ভিন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট ও দেশটির জনকদের মধ্যে অন্যতম জন অ্যাডামসের মতে, ‘শিক্ষক হলেন জাতির আলোকবর্তিকাবাহী এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ রূপকার। মেকার অব ম্যান।’  

অভিভাবকরা বলছেন, জন্মের পর চার বছর থেকে শুরু করে কমপক্ষে ১৮ বছর বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকের সান্নিধ্যে থাকেন। সুকুমার বৃত্তিগুলোর বিকাশ সাধন করে আলোর সন্ধান দিয়ে থাকেন। কিন্তু শিক্ষকরা এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে ঐ শিক্ষার্থী সফল হতে পারে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের শিক্ষকদের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। রয়েছে নানা ধরনের বৈষম্য। এগুলো শিক্ষকদের আচরণেও প্রভাব ফেলে। অনেক বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষকরা বিনা বেতনেও এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। কেউ সামান্য অঙ্কের বেতন পান। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান মূল বেতন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, সব স্তরেই বেসরকারি শিক্ষক রয়েছেন। এসব শিক্ষক ভালো নেই।

অভিভাবকরা বলছেন, প্রশাসনিক বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দেখভাল করবে। শিক্ষকদের জন্য ভালোমানের বেতন কাঠামোও থাকা দরকার। সবকিছুর পরও আমরা চাই শ্রেণিকক্ষে আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, আমি এমন শিক্ষক চাই যার আদর্শে আমার সন্তান বড় হয়ে উঠবে। তাকে অনুসরণ করবে, মানবে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা আয়েশা সুলতানা বলেন, সন্তানরা দিনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্কুলে থাকে। শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই শিক্ষকদের পড়াশোনা ছাড়াও আন্তরিক হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের বাবা-মায়ের ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু এমন শিক্ষক আমরা পাচ্ছি না।

রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা উবায়দুল্লাহ বলেন, শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের শেখানো, উন্নত করা এবং তাদের নৈতিক আত্মবিশ্বাস উন্নত করা। শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশে উন্নতিতে সহায়ক ও উৎসাহ জোগানো।

স্কুলে পাঠিয়ে অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন থাকেন। স্কুলটিকে তারা আরও নিরাপদ দেখতে চান। যেটা হবে ঠিক ঘরের পরিবেশের মতো। কিন্তু আমরা সেটা পাচ্ছি না। স্কুলে পাঠিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন থাকি। কথাগুলো বলেছেন জসীম উদ্দিন নামের এক অভিভাবক।

২০১০ সালের ৯ আগস্ট সরকার একটি পরিপত্র জারি করে। ঐ পরিপত্রে দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। অভিভাবকরা বলছেন, নীতিমালা জারি করে শিক্ষকদের মারধরের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। এছাড়া এখনো অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে আঘাত করেন, সে খবরও আসছে প্রতিনিয়ত। আইন নীতিমালা করে শিক্ষকদের কেন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে—এমন প্রশ্ন রাখেন হাসিনুর রহমান নামে এক অভিভাবক। শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের নীতিমালা রয়েছে। তবুও শিক্ষকদের কোচিং বিমুখ করা যাচ্ছে না। এতে অভিভাবকরা শিক্ষকদের ওপর বিরক্ত। নজরুল আমিন নামে এক অভিভাবক জানান, একজন আদর্শ শিক্ষক হবেন চরিত্রবান। তিনি আদর্শের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একজন আদর্শ শিক্ষক হবেন ধৈর্যশীল। ধৈর্য ধরে বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে নিয়ে কাজ করবেন। এই ধৈর্যশীলতাই সব শিক্ষার্থীকে শিক্ষাগ্রহণে উৎসাহিত করবে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৩’ আজ। এ বছর এই দিনটি প্রথম বারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করছে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

আজ সাত জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা হচ্ছেন—বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. হামিদা বানু ও স্বাস্থ্য শিক্ষা পর্যায়ে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। কলেজ পর্যায়ে মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক ড. মো. জুলফিকার হায়দার, মাদ্রাসা পর্যায়ে রংপুরের ধাপ-সাতগাড়া বায়তুল মুকাররম কামিল মাদরাসার প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান, কারিগরি পর্যায়ে কুমিল্লার আফজল খান কারিগরি ও কমার্স কলেজের শিক্ষক মো. নিজামুদ্দীন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ভোলার লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোসা. হোসনে আরা বেগম এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এরফান আলী।

ইত্তেফাক/এমএএম