জার্মানির পুনর্মিলনকে ‘দখল’ বলছে রাশিয়া

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৪৩

রাশিয়ায় ইতিহাসের নতুন এক বইয়ে দুই জার্মানির পুর্নমিলনকে কমিউনিস্ট ইস্ট অর্থাৎ পূর্ব জার্মানিকে ‘দখল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জার্মান ইতিহাসবিদরা মনে করেন, এ কথা বলে ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন পূর্ব জার্মানি যা জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (জিডিআর) হিসেবে পরিচিত ছিল তা আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে যোগ দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৪৫ বছর পর সেদিন দুই জার্মানি একত্রিত হয়ে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এ ঘটনার ৩৩ বছর হয়ে গেল।

তবে, এই পুর্নমিলন নিয়ে রাশিয়ার সাম্প্রতিক যে অবস্থান তা জার্মান বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসবিদদের বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত এক নতুন ইতিহাস বইয়ে জার্মানির পুনর্মিলনকে ‘জিডিআরকে দখল করা হয়েছে’ বলে দাবি করা হয়েছে। বইটি গত মাসে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স পরাজিত জার্মানিকে চার ভাগে ভাগ করে নেয়। পশ্চিমাদের তিন অংশ নিয়ে গড়ে তোলা হয় ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি।

অন্যদিকে, সোভিয়েতের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশের নাম হয় জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক। জার্মানির পূর্বাংশ চলতে থাকে সাম্যবাদী ধারায়, পশ্চিমাংশ চলতে থাকে পুঁজিবাদী ধারায়। দুই জার্মানির এই বিভক্তি বিংশ শতাব্দীতে স্নায়ু যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত পূর্ব জার্মানি চার দশকেরও বেশি সময় টিকে ছিল। তবে ১৯৮৯ সালে জিডিআরের ৪০তম বার্ষিকীতে উৎসবের পাশাপাশি ব্যাপক প্রতিবাদও হয়েছিল। সে বছরের ৯ নভেম্বর বার্লিন প্রাচীরের পতন ঘটে। পাশাপাশি ১৯৯০ সালে জিডিআরে প্রথম ও শেষ অবাধ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। তখন দুই জার্মানির পুনর্মিলন প্রক্রিয়া এগিয়ে যায় এবং ‘টু প্লাস ফোর ট্রিটি’ নামের একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়। সবকিছু মিলিয়ে ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর দুই জার্মানির পুর্নমিলন ঘটে।

মাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউটের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক উটে ফ্রিভার্ট বলেন, ‘পুতিন ও তার অনুসারী ইতিহাস নিয়ে মিথ্যা বলাদের কাছে এই পুর্ন একত্রিকরণ উপনিবেশায়ন। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিম দুর্বল পূর্বকে অধীনে নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের সঙ্গে এই দাবির কোনো মিল নেই। তবে পুটিন শাসকগোষ্ঠীর পশ্চিমাবিরোধী আখ্যানের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

ইত্তেফাক/এইচএ