বিয়ের একদিনের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী জহুরুল ইসলামকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর নববধূ রুমা আক্তার। মোছেনি নববধূ রুমার হাতের মেহেদী ও শুকায়নি বাসরের ফুল। এরই মধ্যে হারাতে হয়েছে স্বামীকে। রুমার স্বামী হারানোর আহাজারি শুধু তার বাড়িতেই নয়, গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের মাতন।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকালে সাক্ষী দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বিরামপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন সড়কে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তার মৃত্যু ঘটে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে পুলিশের যোগ দেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৫ নম্বর খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রামের গোফ্ফার আলীর একমাত্র ছেলে জহুরুল ইসলাম। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নীলফামারীর জলঢাকা থানায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। জহুরুল ইসলাম সাতদিনের ছুটিতে এসে গত সোমবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের উষাহার বানাহার গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে রুমা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরদিন মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকালে এসআই জহুরুল ইসলাম তার বন্ধু একই ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে মোনায়েম হোসেন সুজনকে (৩৫) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে রাজশাহী বিশেষ দায়রা জজ আদালতে একটি মামলার সাক্ষী দিতে যান। সাক্ষী দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বিরামপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন সড়কে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জহুরুল ইসলাম ও সুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে জহুরুলের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর সংবাদে শ্বশুর বাড়িতে নববধূ রুমা ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে যায় পরিবেশ। বিয়ের একদিনের ব্যবধানে স্বামীর মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন রুমা। কথা ছিল; রাজশাহী থেকে ফিরে বুধবার রুমা আক্তারকে নিয়ে যাবেন তার শ্বশুর বাড়ি।
বিরামপুর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় দুজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
