এই তো জুলাইয়ে বাংলাদেশকে রীতিমতো বিভীষিকা উপহার দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পেছনে একঝাঁক দ্রুতগতির পেসার লেলিয়ে দিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। অ্যান্টিগ্যা, কিংস্টনে উইন্ডিজ পেসারদের তোপে চোখে সর্ষে ফুল দেখার অবস্থা হয়েছিল সাকিব-মুশফিকদের। অ্যান্টিগায় তো ৪৩ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। যা টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম স্কোরে অলআউট হওয়ার লজ্জার স্মৃতি হয়ে টিকে আছে। দুই ম্যাচেই আত্মসমর্পণ করে হেরেছিল টাইগাররা।
প্রায় চার মাস পর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও তিক্ত অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। অ্যান্টিগা-কিংস্টন ভুলিয়ে দেয়ার মিশনে টাইগারদের অস্ত্র অবশ্য স্পিন। আর তাতেই নাকের জল-চোখের জল এক হয়ে যাচ্ছে ক্যারিবিয়ানদের। চট্টগ্রামে তিন দিনে ম্যাচ হারের পর মিরপুরেও সফরকারী ব্যাটসম্যানরা দিশেহারা বাংলাদেশের ঘূর্ণি জালে। বাংলাদেশের ৫০৮ রানের বড় স্কোরের বিপরীতে গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৭৫ রান। সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়েছিল তারা।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এমন দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মুখে ফেলার। জুলাইয়ে ব্যাটিং দুঃস্বপ্নের স্মৃতি মনে রেখে সবাইকে খেলতে বলেছিলেন অধিনায়ক সাকিব। বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের কথায় তেতে উঠেছিল গোটা দল।
অ্যান্টিগা-কিংস্টনের স্মৃতি ভুলতে নিজেদের শক্তির জায়গা স্পিন দিয়েই ক্যারিবিয়ানদের নাকাল করার পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ। বলা বাহুল্য, সেই মিশনে এখন অব্দি এসেছে অসামান্য সাফল্য।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্টের নতজানু পারফরম্যান্সের কথা মনে ছিল কিনা জানতে চাইলে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ‘যখন টেস্ট সিরিজটা শুরু হয়, তখন সাকিব একটা কথা বলেছিল। আমার মনে হয় এটা আমাদের মনে রাখা উচিত, ওখানে আমরা কিভাবে হেরেছিলাম। ওই হার দুটো মনে রাখলে, এখানে আমরা মোটিভেট হতে পারবো। এ জিনিসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয় সাকিবের এ বক্তব্য সবাইকে মোটিভেট করেছে। হারটা যদি আপনি সহজেই ভুলে যান তো আপনি শিখলেন না। সাকিবের এ কথাটা ভালো একটা বার্তা ছিল। আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় এ কথাগুলো দলকে মোটিভেট করেছে।’
গতকাল মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে এখনো ৪৩৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। ক্যারিবিয়ানরা ফলো অনে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রতিপক্ষকে ফলোঅন করানো সম্পর্কে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘এটা এখনো অনেক দূরের ব্যাপার। কালকে (আজ) আমরা নামবো। শুরু থেকেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভালো বোলিং করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সবকিছু নির্ভর করবে।’
এমনকি সাকিবদের স্পিন জাদু অব্যাহত থাকলে মিরপুরে ইনিংস ব্যবধানেও জিততে পারে বাংলাদেশ দল। নিজেদের ইতিহাসে কখনোই প্রতিপক্ষকে ফলো অন করায়নি বাংলাদেশ। ইনিংস ব্যবধানেও জয় পায়নি।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অনায়াসে ব্যাটিং করলেও শেষ বিকালে টপাটপ উইকেট পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মাহমুদউল্লাহর মতে, সাকিব-মিরাজরা ভালো জায়গায় বোলিং করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি বোলিংয়ের দিক বলি, আমার মনে হয় আমরা ভালো জায়গায় বল করেছি আজ (গতকাল)। সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আমরা চেয়েছিলাম দুই-তিনটা উইকেট নিয়ে এগিয়ে যেতে। এখানে আধা ঘণ্টায় আজ (গতকাল) পাঁচটা উইকেট পড়েছে। এ বিষয়টা আমাদের বেশ আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।’
স্কোর কার্ড
ভেন্যু : মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম
