বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

এনআইডির তথ্য ফাঁস

নজরদারিতে মোবাইল অপারেটর তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেবে ইসি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:০০

টেলিগ্রামে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় মোবাইল অপারেটরসহ সব পার্টনার সার্ভিসকে নজরদারিতে রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাদের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের প্রমাণ মিলবে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

দেশের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে ফাঁস হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এনআইডি সার্ভারে ১২ কোটি নাগরিকের তথ্য আছে। তাদের মধ্যে সাড়ে ৫ কোটি নাগরিকের স্মার্ট এনআইডি আছে। গত মঙ্গলবার বিষয়টি চাউর হয়। এর পেছনে কে বা কারা, জানে না ইসির এনআইডি শাখার সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট। তবে শনাক্ত করা গেছে, এনআইডি সার্ভারে অ্যাক্সেস রয়েছে, এমন ১৭৪টি সংস্থার একটির মাধ্যমেই এসব তথ্য ফাঁস হয়েছে।

টেলিগ্রামে মোবাইল নম্বরসহ বিস্তরিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো কীভাবে সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইন্টারনেটের যুগে সবকিছু সম্ভব। নানা জনের কাছে আমাদের নানা তথ্য আছে। সব জায়গা থেকে ডাটা নিয়ে এগুলো করতে পারে। এর-ওর কাছে তথ্য আছে। সব এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে। কত জনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, জানতে চাইলে ডিজি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে তো কোনো তথ্য যায়নি। আমরা এখনো এ বিষয়ে সঠিক কিছু বলতে পারব না।

১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেউ কি করেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমাদের এখান থেকে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে দুই সিস্টেম ম্যানেজারকে নিয়ে। রাত ১টার সময় সেবা বন্ধ করেছি। সকালেও পাওয়া গেছে। যাদের কাছ থেকে তথ্য গেছে বলে সন্দেহ হয়েছে সবার সার্ভিস দেওয়া বন্ধ আছে। কত প্রতিষ্ঠান সেটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। তদন্তের পর বলা যাবে। সরকারি-বেসরকারি আমার কাছে সেবা নিচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠানই রয়েছে এর মধ্যে।

পার্টনার সার্ভিসের কেউ জড়িত হলে বড় কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এ ব্যাপারে ডিজি কবীর বলেন, আমরা ওদের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক সেবা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছি না। তদন্তের পরে দোষী যে হবে তাকে আইনের তুলে দেওয়া হবে। জরিমানা করার কোনো বিধান নেই। জরিমানা করে কী হবে?

একটি মন্ত্রণালয়ে এর আগে যে তথ্য দিয়ে এনআইডি পাওয়া গেছে এবারও তাই হচ্ছে। বিষয়টি উত্থাপন করা হলে এনআইডি অনুবিভাগের ডিজি বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখি। তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সবাইকে সব তথ্য শেয়ার করা হয় না।

সর্বোচ্চ ব্যবস্থা কী আছে, সেটা নেবেন কি না—প্রশ্নের উত্তরে এনআইডি ডিজি বলেন, সর্বোচ্চ ব্যবস্থা আছে। যারা সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্সে কাজ করে, সফটওয়্যার যারা লুক আফটার করে, এমন যদি হয় তাহলে ব্ল্যাক লিস্টেট করতে আমরা সুপারিশ করব। সে যেন বাংলাদেশে কোথাও কাজ না পায়। কারণ সে বাংলাদেশের সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে চিটিং করছে। তাকে বিশ্বাস করে হাতে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কেউ জড়িত নয়। আমাদের এখান থেকে লিক হয়নি। যেসব জায়গা সাসপেক্টেড তাদের সেবা বন্ধ করা হয়েছে। তাদের জানানো হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি