বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

এম সাখাওয়াতের শঙ্কা

‘আরও নিষেধাজ্ঞা আসছে’

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ২১:২৯

ধারাবাহিকভাবে আরও নিষেধাজ্ঞা আসছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.)।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, আজ থেকে বছরখানেক আগে নিষেধাজ্ঞার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ডেমোক্রেটিক সামিটে আমন্ত্রণ না জানানো, র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ নির্দিষ্ট কিছু জায়গা তারা ধরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা সেই ওয়ার্নিং বুঝিনি বা আমরা চেষ্টাও করিনি বোঝার। পরে তারা যখন দেখেছে বাংলাদেশ এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না তখন তারা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েই এগিয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকে না কোনো কাজে। দায়ী থাকে সেখানে কাজ করা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি। যেমন আমরা বলছি যে বিচার বিভাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসছে তবে বিষয়টি হলো পুরো বিচার বিভাগ নয়, কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসছে। পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা মানে সব পুলিশের ওপর না। পুলিশে কর্মরত কিছু ব্যক্তির ওপর।

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন অনেক বড় একটি বিষয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সবদলই অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু ফলাফল কী হলো? কিন্তু এটি সম্পূর্ণ একটি ম্যানুপুলেটেড নির্বাচন হলো। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চাইলে পুরো বছর সেটির ওপর কাজ করতে হবে। কিন্তু আমাদের এখানে পুরোনো মামলা দেখিয়ে যাকে তাকে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। অর্থাৎ শুরু থেকেই জনগণের ওপর কতৃত্ব শুরু হয়েছে। ভিসা পাওয়া আর না দেওয়ার মাঝে তফাৎ আছে।

তিনি বলেন, আমরা লাইভে দেখি যে অনেক জায়গায় ভোটার নেই। কিন্তু হুট করে অনেক লোক চলে আসে। তখন আমরা বলি, সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি যখন প্রশিক্ষণ দিই তখন সাংবাদিকরা বলেন, আমরা সবকিছুই অফিসেই জমা দিই। কিন্তু পরে সেটি আর দেখি না। এসব কাজে যারা জড়িত সেসব ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসবে। গণমাধ্যম মানে পুরো গণমাধ্যমের ওপর না। এখানে কর্মরত কিছু ব্যক্তির ওপর। আমার ধারণা নিষেধাজ্ঞা কখনো পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর আসবে না। এটা আসবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর।

এই নিষেধাজ্ঞায় শেষ নয় উল্লেখ করে ড. এম সাখাওয়াত বলেন, আমার মনে হয় এটা মাত্র শুরু। আমাদের অনেক আগে থেকেই সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা সতর্ক হইনি এখনো। ফলে এমন নিষেধাজ্ঞা আসা শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে তিন সপ্তাহ ছিল। তারা সবার সঙ্গে কথা বলেছে। বড় বড় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা কথা বলেছে। তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও কথা বলেছে। নিজেরাও পর্যবেক্ষণ করেছে। সবশেষে তারা বলেছে এখনো বাংলাদেশে নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়নি।

ইত্তেফাক/এবি