সড়ক মানেই মরণফাঁদ!

  • প্রাণঘাতীর মূলে বেপরোয়া গতি 
  • সেপ্টেম্বরে ৪০২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৭ জন, আহত ৬৫১ 
  • ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৪টি ব্ল্যাক স্পট নির্ধারণ
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:০০

অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ ও নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং এবং ওভারটেকিং করার প্রবণতায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গাড়ির বেপরোয়া গতি। এ কারণে সড়কে বাড়ছে লাশের মিছিল। বর্তমানে সড়ক মানেই মরণ ফাঁদ। বাড়ি থেকে বের হয়ে আবার বাসায় ফেরা যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই সড়কে। মৃত্যুর মিছিল বাড়লেও এ বিষয়ে কোনো সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। যতদিন সচেতনতা তৈরি না হবে ততদিন এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করেন সড়ক বিশ্লেষকরা। যদিও লেখা থাকে সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি কিন্তু আমরা জীবনের চেয়ে সময়ের দাম বেশি দিতে যেয়েই অকালে হারিয়ে যাচ্ছি!  যদিও এককভাবে দায় চালকের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। দায় যাত্রীদেরও রয়েছে। কারণ, গাড়ির দুরন্ত একই সঙ্গে বেপরোয়া গতি না থাকলে অনেকেই সেই গাড়িতে ভ্রমণ করতে চান না। আবার মাঝেমধ্যেই চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উদ্বুদ্ধ করেন।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও আহত নিহতের সংখ্যা জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।  তাদের পরিসংখ্যান বলছে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৪০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় সারা দেশে ৪১৭ জন নিহত ও ৭৫১ জন আহত হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) দুর্ঘটনার সংখ্যা কম করে দেখিয়েছে। বিআরটিএ বলছে গত সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে ৩০৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৪১৬ জন যাত্রী ও পথচারী। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব থেকে সেখানে ৯৪ জন কম দেখানো হয়েছে। সরকারি সংস্থার এমন হিসাব প্রমাণ করে তারা জনগণের জীবন নিয়ে খেলা করতেই বেশি ভালোবাসে?  

এছাড়াও সড়কে এমন প্রাণঘাতীর মূলে রয়েছে বেপরোয়া গতি। এমনটিই উঠে এসেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির গবেষণা থেকে। কল্যাণ সমিতি বলছে, সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক অবাধ চলাচল ছাড়াও ব্যাটারিচালিত রিকশা ও তিন চাকার যানের ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়া যা দুর্ঘটনার অন্যতম  একটি কারণ। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে  অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক। যানবাহনের মালিকরা তাদের পরিবহন ভাড়ায় চালাতে বেশি পছন্দ করেন। বেতন এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা না দিয়ে নগদ টাকা গুনে নিতেই মালিকদের এই উদ্যোগ। ফলে, সারা দিনের টাকা তুলতে বেশি বেশি ট্রিপ মারার প্রবণতায় সব ধরনের আইন অমান্য করে চলে এসব যানবাহন। তাদের এই বেপরোয়া গতির শিকার হন সাধারণ মানুষ ফলে দিনকে দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে লিখিত নিয়ম থাকলেও তা মানা হয় না। কোনোভাবেই চুক্তিতে গাড়ি দেওয়া যাবে না আবার বেতন ছাড়া চালক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেই তা মানা হয় না। সড়কে এমন অনিয়ম নিত্যনৈমিত্তিক হলেও টাকা দিয়ে ট্রাফিকরা তার বৈধতা দিয়ে থাকেন। এদিকে অধিক ট্রিপের লোভ আর কন্ট্রাকের টাকা তুলতে নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১২৬টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক চিহ্নিত করে এবং নতুন করে ১৮টি বাঁক প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় পথচারীদের ক্রসিংয়ের উন্নয়ন, মহাসড়কগুলোকে নিরাপদ করতে ইন্টারসেকশন উন্নয়ন, বাঁক সরলীকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সংস্কার, সিগন্যালিং, রোড মার্কিং স্থাপন, সাইন সিগন্যাল, দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হবে।

বিআরটিএ এর তথ্যমতে, রাজধানীতে মোটরসাইকেল বাদে যানবাহন রয়েছে ৫ লাখের বেশি। বিশাল সংখ্যক এই পরিবহনের ফিটনেস পরীক্ষার জন্য মাত্র এক জন উপ-পরিচালক ১১ জন কর্মকর্তা নিয়ে কাজ করছেন। ফলে প্রকৃতপক্ষে ফিটনেস যাচাই করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

ইত্তেফাক/এমএএম