গাজীপুরে বিল ভরাট করে আবাসন প্রকল্প করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০০ একর (তিন শত বিঘা) জমিতে বালু ভরাট করার জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে বসানো হয়েছে লোহার পাইপ। নগরীর ১৩ ও ২০ নং ওয়ার্ডের ইটাহাটা, কামার বাসুলিয়া ও মজলিশপুর এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ‘আলেম ওলামা ও দ্বীনদার প্রপার্টি’ নামে একটি সংগঠন মাটি ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে তারা জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক ফরহাদ হোসেন জানান, ‘আলেম ওলামা ও দ্বীনদার প্রপার্টি (এডিপি)’ নামে একটি সমিতি বিলে জমি কেনা শুরু করে। কেনা জমিতে মাছ চাষ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন সংগঠনের সদস্যরা। এর চেয়ারম্যান ছিলেন হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন নেতা মরহুম মাওলানা ফজলুল হক আমিনী। তার মৃত্যুর পর মাওলানা ফয়জুল্লাহকে চেয়ারম্যান করা হয়। এখন তারা বিল ভরাট করে আবাসন প্রকল্পের আয়োজন শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, বাড়িসহ জমি বিক্রি না করায় তার বাড়ির চারপাশের মাটি কেটে বিশাল গর্ত করে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গভীর গর্ত করায় পাড়ের মাটি ভেঙে পড়ছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঝুঁকিতে আছেন।
বৃদ্ধ মো. শুক্কুর আলী বলেন, বিল ভরাট করা হলে কৃষকের চাষাবাদ ব্যাহত হবে। এলাকা হবে মাছশূন্য। এলাকার লোকজন বলেন, তদন্তে এসে ভূমি অফিসের লোকজন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) লিখিত প্রতিবেদন দেন। পরবর্তীকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বিল ভরাট বন্ধের জন্য ঐ সমিতিকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এছাড়া মহানগর এলাকায় প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর ৫নং ধারায় প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গায় শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না মর্মে উল্লেখ রয়েছে।
জলাশয় ভরাট প্রসঙ্গে কাজের তদারককারী হাজী তৈয়ব হোসেন বলেন, লালবাগ মাদ্রাসার হুজুর হাফেজ মুসাসহ সাড়ে ৪০০ আলেম ওলামা ২০০০ সালে বছরে ৫ হাজার টাকা করে জমিয়ে ২০০৯ সালে সকলের নামে আবাসনের জন্য ৭৫ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের অনুমতি এবং কথা বলে বালু ভরাটের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতির কাগজ তাদের আছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কোনো কাজ করা আইনসম্মত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বেলাই বিল ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
