‘জয়ী অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’ পেলেন ২০ নারী 

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:৪৫

অনলাইনভিত্তিক নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করা দেশের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স (উই) ট্রাস্ট আয়োজন করে ২ দিন ব্যাপী (৬ ও ৭ অক্টোবর) ‘উইমেন ই-কমার্স এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ সামিট (উই সামিট) ২০২৩’। সারা দেশ থেকে আসা নারী উদ্যোক্তা ও খাত সংশ্লিষ্ঠদের অংশগ্রহণে এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশেষ বিশেষ নারীদের প্রদান করা হয় 'জয়ী অ্যাওয়ার্ড-২০২৩'। এ বছর ২০ জন নারীকে ‘উই-জয়ী’ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

শনিবার (০৭ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) উই সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়। 

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘উইমেন ই-কমার্স এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ সামিট ২০২৩’ উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আয়োজনের আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন উই প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উই’র পরিচালক ইমানা হক জ্যোতি।

সামিট এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘দেশে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই নারীদের ছাড়া কোনো কিছুই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নারীদের ঘরে বসিয়ে না রেখে তাদের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই নারী-পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ‘স্মার্ট নাগরিক হতে হলে নারীদের স্মার্ট হতেই হবে। নারীদের শক্তিকে আমরা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারি তবে অর্থনীতি কখনোই শক্তিশালী হবে না। তাই নারীদের শক্তিশালী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

উইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার বলেন, ‘প্রতিবছরই সামিটের সময় জয়ী পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছরও দেশের বিভিন্ন খাতে অবদান রাখা ১০ নারীকে জয়ী সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উইয়ের সদস্যদের মধ্য থেকে ১০ নারী উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছে জয়ী পুরস্কার।’

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার বলেন, ‘বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের যে উন্নতি হয়েছে, তা উইয়ের অগ্রণী ভূমিকার কারণে হয়েছে। আমাদের এখন বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের সফলতাগুলো বিশ্বজুড়ে তুলে ধরতে হবে।’

অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্ব শ্রেণিতে এ বছর জয়ী পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও শিক্ষাবিদ প্রয়াত পান্না কায়সার। নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রসারে অবদান রাখায় দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বর্ষসেরা করপোরেট লিডার শ্রেণিতে গ্রিন ডেলটা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারজানা চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবায় বর্ষসেরা উদ্ভাবক হিসেবে লাইফস্প্রিংয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও সেক্সুয়াল মেডিসিনের প্রধান ডা. সুষমা রেজা, বর্ষসেরা সামাজিক প্রভাবক শ্রেণিতে বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস, বর্ষসেরা ই-কমার্স পথিকৃৎ হিসেবে বিক্রয় ডটকমের সিইও ঈশিতা শারমীন, বর্ষসেরা এফ-কমার্স শ্রেণিতে স্টিডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান জয়ীরিয়া মোস্তারি, বর্ষসেরা শিক্ষা প্রভাবক শ্রেণিতে টেন মিনিট স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মুনজেরিন শহিদ, বর্ষসেরা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শ্রেণিতে মঞ্চকর্মী, অভিনয়শিল্পী ও পরিচালক হৃদি হক এবং বর্ষসেরা সামাজিক প্রভাবক শ্রেণিতে জয়ী পুরস্কার পেয়েছেন উইমেনস ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা ফারনাজ আলম।

ইত্তেফাক/এআই