নিজের ভুলেই মদ নিয়ে ধরা পড়েন তপু বর্মন, প্রকাশিত হয়নি আরো দুজনের নাম

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:৪৬

দেশের পাঁচ ফুটবলার মদকাণ্ডে ঘৃণিত। কারো কাছে মুখ দেখানোর অবস্থাও নেই। তপু বর্মন, আনিসুর রহমান জিকো, শেখ মোরসালিন, তৌহিদুল আলম সবুজ, রিমন হোসেনদেরকে বসুন্ধরা কিংস থেকে বের করে দিয়েছে। খেলোয়াড়দেরকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করছেন খেলোয়াড়দের ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। এরই মধ্যে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দেরকে জাতীয় ফুটবল দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। বিদেশি শতাধিক মদ নিয়ে এসেছিলেন খেলোয়াড়রা। মালদ্বীপে এএফসি কাপে খেলতে গিয়ে ম্যাচ হেরে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ফেরার পথে ঢাকায় বিমানবন্দরে মদ নিয়ে ধরা পড়েন ফুটবলাররা।

দেশের ফুটবলের মানসম্মান নষ্ট করেছেন চারদিকে ছি ছি করছে। অভিযুক্ত ফুটবলাররা ফোন ধরছেন না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক সেটা রিমন হোসেন স্বীকার করে নিলেও অন্যদেরকে ফোনে পাওয়া না যায়নি। তবে মদকাণ্ডে নতুন মোড় নিচ্ছে, সেদিন আরো দুজনের কাছে মদ পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের নাম প্রকাশ হয়নি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কিংসের কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা কয়েকজন ফুটবলার আনুষ্ঠানিকতা সেরে বাইরে অপেক্ষা করছেন। এর মধ্যে পেছনেই ছিলেন তপু বর্মন। কাষ্টমস তাকে সঙ্গে থাকা লাগেজ থার্মাল স্ক্যানারে দিতে বলা হলে হাতের সব তুলে দেন তপু। থার্মাল স্ক্যানার যারা পরিচালনা করেন তারা দেখতে পান মদের বোতল। তখন তপুর বুঝতে পারেন তিনি ভুল করে মদের বোতলের ব্যাগও থার্মাল স্ক্যানারে তুলে দিয়েছেন। এক ভুলেই সর্বনাশ হয়। পেছনে সবার ব্যাগ থার্মার স্ক্যানারে তোলা হয়।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় ফুটবলাররা নিয়মিত যাওয়া আসা করেন বলে অনেককে চেনেন কাষ্টমস কর্মকর্তারা। তাই খুব একটা কথাও বলেন না। যখন একের পর খেলোয়াড়দের কাছ থেকে মদের বোতল বেরিয়ে আসছিল তখন কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ হতবাক হয়েছেন। তপুর পেছনে চেকিংয়ের অপেক্ষায় থাকা অন্যান্য ফুটবলার যতটা সম্ভব দ্রুত মদের বোতল সরিয়ে ফেলেন। কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ ৬৪ বোতল মদ তালিকা করে।

ক্লাবের ফুটবলার হলেও তারা জাতীয় দলে খেলেন বলে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। মদ বহন করেননি এমন একাধিক ফুটবলারের মতে তপুর ভুলে এই কাণ্ড হয়েছে। দলে বিদেশি ফুটবলার ছিলেন, তাদের ব্যাগেও এতো মদ পাওয়া যায়নি, যতটা পাওয়া গেছে দেশি ফুটবলারদের কাছে। অনেকেরই ধারণা বিদেশ থেকে  ফুটবল খেলে দেশে ফেরার সময় এরা কাষ্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত বিদেশি মদ এনেছেন। বিষয়টি তাদের কাছে এতোই সহজ হয়ে গিয়েছিল যে মদ বহন করার বিষয়টি কঠিন কিছু মনে করতেন না।

ইত্তেফাক/এএম