ইংলিশদের বিপক্ষে টাইগারদের যত সমীকরণ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৩, ১০:১০

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ধর্মশালায় আফগানিস্তানকে বড় ব্যাবধানে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরু করে সাকিব আল হাসানের দল। এই ম্যাচ জয়ের পর টাইগারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ একই মাঠে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল ইংল্যান্ড।

সমীকরণের দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে ইংলিশরা। যদিও বিশ্বকাপের মুখোমুখিতে পাল্লা সমানে সমানে। এছাড়া আইসিসির ওয়ানডে র্যাকিংয়েও বাংলাদেশের থেকে এক ধাপ এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। তাদের অবস্থান ৬ ও বাংলাদেশের অবস্থান ৭ নম্বরে। এক দিনের ক্রিকেটে মোট ২৪ বারের দেখায় জয়ের পাল্লা ভারী ইংলিশদের। ইংল্যান্ডের ১৯ জয়ের পবিবর্তে বাংলাদেশের জয় পাঁচটিতে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার ২০০০ সালে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সেবার বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারায় ইংলিশরা। এরপর ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে ইংলিশদের কাছে ধবলধোলাই হয় বাংলাদেশ। এরপর দুই বছর পর ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। সেই সিরিজও ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয় টাইগাররা। ২০১০ সালে আবারও ইংলিশদের ঘরের মাঠে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জায় পড়ে বাংলাদেশ। 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১০ এর ১০ জুলাই বাংলাদেশ প্রথম জয় পায়। সেই ম্যাচে ব্যাট-বল হাতে ঝলক দেখায় মাশরাফি বিন মুতর্জা। ৪২ রান খরচ করে ২ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ২২ রান করেন তিনি। এরপর ২০১১ সালের বিশ্বকাপের চট্টগ্রামে প্রথম বারের মতো ইংল্যান্ডকে হারানোর স্বাদ পায় বাংলাদেশ।  এরপর ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অ্যাডিলডে ইংলিশদের ১৫ রানে হারায়ি কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে সিরিজের আয়োজন করে বাংলাদেশ। সে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরপুরে ৩৪ রানে ইংলিশদের হারায় টাইগাররা। ২০১৭ সালে ওভালে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সে ম্যাচেও ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশকে হারায় ইংলিশরা।

সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলে সাকিবরা। ঘরের মাটিতে এ সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ইংলিশদের কাছে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৩ উইকেটে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩২ রানের বড় ব্যবধানে হারে সিরিজ হারে বাংলাদেশ। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংলিশদের ৫০ রানের হারিয়ে হোয়াইট ওয়াশ থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।

যদিও বিশ্বকাপ মুখোমুখিতে সমানে সমান বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড। এবারের আগে মোট চার বার মুখোমুখি হয় এই টুর্নামেন্টে। যার মধ্যে দুটি করে জয় দুই দল। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখা হয় ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচ ইংলিশদের কাছে ১০৪ রানের বিশাল ব্যাবধানে হারে টাইগাররা।

এরপর ২০১১ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে খেলে বাংলাদেশ। সেবার চট্টগ্রামের সাগরিকায় ইংলিশদের ১৫ রানে হারায় লাল-সবুজেরর প্রতিনিধিরা। ২০১৫ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ায়। সেইবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে রুবেল হোসেনের তাণ্ডবে ২ উইকেটে ইংলিশদের হারিয়ে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। অবশ্য সবশেষ এই টুর্নামেন্টের দেখায় ঘরের মাঠে টাইগারদের হারায় ইংলিশরা। এবং শেষ পর্যন্ত আসরের সেরাও হয় তারাই।

ইত্তেফাক/এএম