গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া বাগুমৃধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে জাল সনদ ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ২৪ বছর ধরে শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের জমিতে বাড়ি করে বসবাস করা, বিদ্যালয়ের মাঠে মার্কেট করে বিক্রি করে দেওয়া, বিদ্যালয় মাঠে বালু ভরাটে অনিয়ম, গাছ বিক্রি, গেট নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে এ ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে মিতা আহমেদ। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক জাল সনদে চাকরি নিয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গড়িমসি ছিল, বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে প্রধান শিক্ষকের নিজ বাড়ি নির্মাণ, বালু ভরাটের ৯০ হাজার টাকার অনিয়ম, বিদ্যালয়ে গেট নির্মাণ না করে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও গাছ বিক্রির ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এছাড়াও গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্ত্রীকে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান হিসেবে নিয়োগসহ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, জাল জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক হওয়া অভিযুক্ত গোলাম মাওলা ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। ছিলেন একটি কোম্পানির কর্মচারী। সেখান থেকে স্কুলের দাতা সদস্যের মেয়েকে বিয়ের সুবাদে জাল সনদ দিয়ে অভিজ্ঞতা ছাড়াই হয়ে যান সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ১৯৯৯ সালে তিনি কৃষ্ণাদিয়া বাগুমৃধা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন প্রধান শিক্ষক হিসাবে। জাল সনদ ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই ২৪ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন তিনি।
এছাড়া তার স্ত্রী মুক্তা খানম ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে যোগদান করেছেন। কিন্তু তিনি পাশ করেছেন ২০১৭ সালে। নিয়োগের চার বছর পরে লাইব্রেরিয়ান পাশ করেছেন। এই চার বছর তিনি বিনা বেতনে বিদ্যালয়ে চাকরি করছেন বলে জানালেও তিনি যে বিদ্যালয় থেকে বেতন নেননি তার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা এসএসসিতে দ্বিতীয়, এইচএসসিতে তৃতীয়, বিএ পরীক্ষা এবং বিএড দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিএ পাস করলেও বিএড পাস করেননি।
বিএড পাশ করেছেন ১৯৯১ সালে, প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন ১৯৯৯ সালে এবং বিএড পাশের সার্টিফিকেট তুলেছেন ২০০৯ সালে। তাহলে কোনো সার্টিফিকেট দিয়ে যোগদান করেছেন এই প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত গোলাম মাওলা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রভিশনাল সার্টিফিকেট দিয়ে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু প্রভিশনাল সার্টিফিকেটের কোনো ফটোকপিও তিনি গণমাধ্যমকে দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মিতা আহমেদ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা জাল সনদ দিয়ে ২৪ বছর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং বিএড সনদ থাকতে হয় যা তার নেই। আমার বাবা ২০০০ সালে জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছিল। অদৃশ্য কারণে অভিযোগটি আলোর মুখ দেখেনি। আমাদের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি বাঁচাতে, এলাকার শিক্ষার মান রাখতে গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাই তার সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
