মাওয়া থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনটি বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে আসে মাদারীপুরের শিবচরে। এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ৬ বারের সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানায় হাজার হাজার শিবচরবাসী।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া স্টেশন থেকে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনের পর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মাওয়া স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনের টিকিট কাটেন। এ সময় তার ছোটবোন শেখ রেহানা ও তাদের পরিবারের তিন শিশু সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিল। সেই ট্রেনে চড়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে পদ্মা ও শিবচর স্টেশন হয়ে ভাঙ্গা রেলওয়ে জংশনে যান তারা।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শিবচরেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ। শিবচরের দুটি রেল স্টেশন, আড়িয়াল খাঁ সেতু,পাচ্চরসহ পুরো এলাকা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারে সাজানো হয়। বিভিন্ন স্থানে রং-বেরঙের বিশালাকার নৌকা প্রতীকও আলাদাভাবে শোভাবর্ধন করে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ দলে দলে মিছিল সহকারে আসতে শুরু করে স্টেশনগুলোতে। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ট্রেনটি পদ্মা ও শিবচর স্টেশন অতিক্রমকালে সর্বত্র ছিল লোকে লোকারণ্য।
যখন ট্রেনটি পদ্মা ও শিবচর স্টেশন অতিক্রম করছিল তখন হাজার হাজার মানুষ স্টেশনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানান। এ সময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হয়ে উঠে গোটা এলাকা। পদ্মা সেতু হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ট্রেন চলাচল উদ্বোধন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়।
ইউএনবির খবর বলছে, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে রেলপথ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা।
সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য (মুন্সীগঞ্জ-২) সাগুফতা ইয়াসমিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন রেলওয়ে সচিব মো. হুমায়ুন কবির।
পদ্মা সেতু হয়ে নতুন রেলপথটি ঢাকার গেন্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ থেকে পদ্মা সেতু হয়ে মাদারীপুর-ফরিদপুর গেছে। আগামী বছর এই রেলপথের বাকি অংশ ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
চীন থেকে আমদানি করা ১৪টি কোচ দিয়ে সরকারপ্রধানের জন্য ট্রেনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। বেলা দুইটায় ভাঙ্গার ডা. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনের পর শিগগিরই এই পথে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। তবে এখনো দিন-তারিখ ঠিক হয়নি।
২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু করা হয়। দ্বিতল এই সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সেতুর ভেতরে রয়েছে ট্রেন চলাচলের পথ। পদ্মার দুই পাড়ে যোগাযোগ স্থাপন করতে নেওয়া হয় আলাদা প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্প নামে পরিচিত।
বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৩ জেলায় রেলপথ রয়েছে। ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ ও মাদারীপুর রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হবে।
