সাব রেজিস্ট্রার না থাকায় জমি বেচাকেনায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের ক্রেতা-বিক্রেতারা। কয়েক মাস ধরেই চলছে এই ভোগান্তি। সেই সঙ্গে সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।
চার মাস আগে মাদারগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার রুমানা তাহিতি তুলি মাতত্বৃকালীন ছুটিতে যাওয়ার পর থেকে জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ হয়ে যায়। পরে পার্শ্ববর্তী সরিষাবাড়ি উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার মহসিন মিয়াকে এই অফিসের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সপ্তাহে একদিন মাদারগঞ্জে এসে অফিস করেন তিনি। এর ফলে দলিল রেজিস্ট্রিকে নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
মাদারগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রি হলেও বাকি চারদিন অলস সময় কাটাচ্ছেন দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্ট লোকজন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখকরা জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হয় তাদের। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওই দিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে, পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নানান ভোগান্তির কারণে জমির মালিক জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পাশাপাশি দলিল লেখকরাও বেকার হয়ে পড়ছে।
উপজেলার চাঁদপুর গ্রাম থেকে দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রি হয়, এতে সাধারণ জমির ক্রেতা ও বিক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রির কারণে অনেকে জমি বেচাকেনা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।’
জামালপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও মাদারগঞ্জ সাব রেজেস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ফরিদুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘দীঘদিন থেকে মাদারগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী কোনো সাব রেজিস্ট্রার নেই, ফলে জমি বেচাকেনায় হয়রানির শিকার হচ্ছে জনসাধারণ। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক দলিল লেখক। আমরা বহুবার যোগাযোগ করছি, এখনও স্থায়ী কোনো সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ হয়নি।’
জামালপুর জেলা রেজিস্ট্রার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় সাতটি উপজেলায় দুজন সাব রেজিস্ট্রার দিয়ে কাজ চলছে। দুজন সাব রেজিস্ট্রার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় এবং তিনজন সাব রেজিস্ট্রার বদলিজনিত কারণে পদ শূন্য থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই প্রতি উপজেলায় শূন্য পদের সাব রেজিস্ট্রার যোগদান করবে।’
